
সিকিমে(Sikkim) জারি তুষার ধসের অ্যালার্ট। পশ্চিমবঙ্গ তো বটেই, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার-হাজার পর্যটক এই পাহাড়ি রাজ্যে বেড়াতে যান। বিশেষ করে গ্যাংটক(Gangtok), Tsomgo Lake ও Nathula Pass-এর মতো জায়গায় পিক সিজনের পর্যটকদের ভিড় লেগেই থাকে। তবে এই মুহূর্তে সেই সিকিমেই জারি হয়েছে তুষারধসের সতর্কতা। এর ফলে বর্তমানে সেখানে যাঁরা আছেন ও যাঁরা শীঘ্রই যেতে চলেছেন, তাঁদের ভ্রমণ পরিকল্পনায় বড়সড় প্রভাব পড়তে পারে।
শনিবার সিকিম প্রশাসনের তরফে এক নোটিফিকেশন প্রকাশিত হয়। সেখানে জানানো হয়েছে, গ্যাংটক ও পাক্যং জেলার উঁচু পার্বত্য এলাকায় তুষারধসের সম্ভাবনা রয়েছে। Sikkim State Disaster Management Authority-র জারি করা নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টায় ৩,৫০০ মিটারের বেশি উচ্চতায় তুষারধস নামতে পারে।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, হঠাৎ আবহাওয়া বদলে যাওয়াই এর কারণ। আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের ফলে পাহাড়ি এলাকায় তুষারের স্টেবিলিটি কমে যায়। এর জেরে উপরের তুষার স্তর নড়বড়ে হয়ে পড়ে। সামান্য প্রভাবেই ধস নামার ঝুঁকি তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের পরিস্থিতিতে অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়ানোই নিরাপদ।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার সকাল থেকে সিকিমের অধিকাংশ এলাকাতেই ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। তার জেরেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। একদিকে বৃষ্টি, অন্যদিকে উচ্চ এলাকায় তুষারপাত; এই দ্বৈত প্রভাবে ঝুঁকি বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ইতিমধ্যেই নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন রুট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গ্যাংটক থেকে ছাঙ্গু লেক ও নাথুলা পাসের রাস্তায় ভারী তুষারপাতের কারণে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে পর্যটকদের ওই সমস্ত এলাকায় যাওয়ার পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়মিত সরকারি নির্দেশিকা মেনে চলার জন্য বলা হয়েছে। আবহাওয়ার আপডেট ও সরকারি সতর্কবার্তা দেখে তবেই ভ্রমণ বা যাতায়াতের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পর্যটন মরসুমে এই ধরনের সতর্কতা নিঃসন্দেহে উদ্বেগের কারণ। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ থেকে বহু মানুষ স্বল্প সময়ে সিকিমে বেড়াতে যান। তাই এই পরিস্থিতিতে নিরাপত্তাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা। আবহাওয়ার অনিশ্চয়তা এবং তুষারধসের আশঙ্কার জেরে আপাতত সতর্ক সিকিম প্রশাসন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত উঁচু পার্বত্য এলাকায় যাতায়াত এড়ানোরই পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।