
জাতীয় গান 'বন্দে মাতরম' নিয়ে নয়া নিয়ম আনল কেন্দ্র। বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানে বন্দে মাতরমের ৬টি স্তবক গান করা বা বাজানো বাধ্যতামূলক করল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। এই ৬টি স্তবকের দৈর্ঘ্য সময়ের বিচারে ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ড।
এই প্রথমবার জাতীয় গানের জন্য আনুষ্ঠানিক প্রোটোকল নির্ধারণ করল সরকার। এর আগে বন্দে মাতরম গাওয়া বা বাজানোর ক্ষেত্রে কোনও রকম নির্দিষ্ট গাইড লাইন ছিল না। এই নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ বা গাইডলাইন ছিল শুধুমাত্র জাতীয় সঙ্গীত জন গণ মন গাওয়া বা পারফর্ম করার ক্ষেত্রেই। তবে এবার নিয়ম বেঁধে দেওয়া হল বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্য়ায়ের বন্দে মাতরমের ৬টি স্তবক নিয়েও। কেন্দ্রের নির্দেশিকা অনুসারে, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অনুষ্ঠানগুলিতে বন্দে মাতরমের ছ'টি স্তবক বাধ্যতামূলক হবে।
উল্লেখ্য, কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক বিবাদ চরমে উঠতে পারে। কারণ, গত বছরেই বন্দে মাতরম ঘিরে শাসক দল বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে তীব্র বাগযুদ্ধ হয়েছিল। তখন খোদ মোদী সংসদে দাঁড়িয়ে অভিযোগ করেছিলেন, দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু নাকি মুসলিমদের খুশি করতে গানটির চারটি স্তবক বাদ দিতে বলেছিলেন। মোদীর এ কথায় তীব্র আপত্তি জানিয়ে কংগ্রেস বলেছিল, এ হল মিথ্যা অপপ্রচার। ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতি তীব্র করতে মোদী সরকার ও বিজেপি এ সব রটাচ্ছিল।
এমতাবস্থায় ফের একবার বন্দে মাতরম নিয়ে নতুন নির্দেশিকা জারি হওয়ায় পুরনো বিতর্ক উস্কে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। ‘বন্দে মাতরম’-এর মর্যাদা, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং রাজনৈতিক ব্যাখ্যা—সব মিলিয়ে জাতীয় স্তরে নতুন করে বিতর্ক পাকাতে পারে।
উল্লেখ্য, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত দেশাত্মবোধক গান বন্দে মাতরমের ১৫০ বছর পূর্তি উদ্যাপন চলছে। ১৮৭৫ সালে লেখা এই গান প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৮২ সালে ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসে। ১৯৫০ সালে গানের প্রথম দুটি স্তবক ভারতের জাতীয় গান হিসেবে গৃহীত হয়।