
মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ অতিক্রম করে একটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার নিরাপদে মুম্বই বন্দরে পৌঁছেছে। জাহাজটি ছিল লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী সুয়েজম্যাক্স শ্রেণির ট্যাংকার সেলং সুয়েজম্যাক্স ট্যাঙ্কার। যেটির ক্যাপ্টেন একজন ভারতীয়।
মুম্বই পোর্ট ট্রাস্ট সূত্রে জানা গেছে, সৌদি আরবের বন্দর থেকে অপরিশোধিত তেল বোঝাই করে জাহাজটি যাত্রা শুরু করেছিল এবং বুধবার মুম্বাই বন্দরে এসে পৌঁছায়। জানা গিয়েছে, ইরান এই ট্যাংকারটিকে সংবেদনশীল হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের অনুমতি দেওয়ার পরই যাত্রা সম্পন্ন হয়।
সূত্রের দাবি, ভারতের বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর এবং ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগাচির মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনার পরই ভারতীয় স্বার্থে এই অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
হরমুজ প্রণালী বিশ্বে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক করিডর। পারস্য উপসাগর থেকে বিশ্বজুড়ে যে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস রফতানি হয়, তার বড় অংশই এই পথ দিয়ে যায়। সম্প্রতি ইরানকে কেন্দ্র করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের পর এই অঞ্চলে উত্তেজনা বেড়েছে, ফলে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে ভারতের জাহাজ পরিবহন মন্ত্রক জানিয়েছে, বর্তমানে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ২৮টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ চলাচল করছে। এর মধ্যে ৬৭৭ জন ভারতীয় নাবিকসহ ২৪টি জাহাজ হরমুজ প্রণালীর পশ্চিমে এবং ১০১ জন ভারতীয় নাবিকসহ চারটি জাহাজ প্রণালীর পূর্ব দিকে অবস্থান করছে।
ভারতীয় জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২৪ ঘণ্টার একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করা হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে এবং প্রয়োজনে দ্রুত সহায়তা সমন্বয় করতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে একই দিনে পশ্চিম ভারতের কান্দালা বন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া একটি থাই জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে হামলার শিকার হয়েছে বলেও খবর। ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথে অন্তত ১৬টি জাহাজে হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। তেহরান সতর্ক করে দিয়েছে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে।