
জ্বালানি সঙ্কটের মধ্যে বৃহস্পতিবারই বড়সড় আপডেট পাওয়া গিয়েছে। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে আলোচনার পরই ভারতীয় জাহাজগুলিকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল করার অনুমতি দিয়েছে ইরান। ফলে আশার সঞ্চার হয়েছে ভারতীয়দের মনে। আশা করা হচ্ছে শীঘ্রই হরমুজ হয়ে ভারতে আসতে পারে গ্যাস ও তেলের ট্যাঙ্কার। কিন্তু প্রশ্ন হল, কতদিনে, কোন রুটে এই তেল ভারতে আসতে পারে?
দূরত্ব কত এবং কত সময় লাগবে?
হরমুজ প্রণালীর পর থেকে গুজরাতের কান্দলা বন্দরের দূরত্ব প্রায় ১০০০ কিমিটার। মুম্বইয়ের দূরত্ব প্রায় ১৪৫০-১৫৬০ কিলোমিটার। তেল ট্যাঙ্কারগুলি সাধারণত ২৪-৩১ কিমি/ঘন্টা গতিতে চলাচল করে। ধরে নিলাম গড় গতি ঘণ্টায় ২৭.৭৮ কিলোমিটার।
তাহলে কান্দলা পৌঁছাতে প্রায় ৩৭ ঘন্টা বা দেড় দিন সময় লাগবে। মুম্বই পৌঁছাতে প্রায় ৫৩ ঘন্টা বা দুই দিনের একটু বেশি সময় লাগবে। বাস্তবে, আবহাওয়া, মালামাল এবং রুটের উপর নির্ভর করে এই সময় দুই থেকে তিন দিন পর্যন্ত হতে পারে। এমনিতেই এই জাহাজগুলি খুব ভারী হওয়ায় এগুলি খুব দ্রুত গতিতে চলাচল করতে পারে না। তবে দু'দিন-তিন দিন একটানা এই জাহাজগুলি চলাচল করতে পারে।
হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল কে নিয়ন্ত্রণ করে?
এই প্রণালীটি ইরান এবং ওমানের মধ্যে অবস্থিত। প্রণালীর সবচেয়ে সংকীর্ণ স্থানটি মাত্র ২১-৩৩ কিলোমিটার চওড়া। সমুদ্র আইন UNCLOS এবং IMO-র আওতায় ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রিত হয়। তবে, ইরানি নৌবাহিনী এবং IRGC এই এলাকার উপর নিজেদের শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে।
ভারতীয় জাহাজগুলোকে কারা নিরাপত্তা দেবে?
ভারত সরকার এবং ভারতীয় নৌবাহিনী বর্তমানে হাই অ্যালার্ট মোডে রয়েছে। তেল এবং LNG ট্যাঙ্কার সহ ২৮ থেকে ৩৬টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ বর্তমানে পারস্য উপসাগরে আটকা পড়েছে। সরকার জানিয়েছে, ভারতীয় নৌবাহিনী এই জাহাজগুলিকে পাহারা দেওয়ার জন্য যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে পারে। এসকর্ট করে বাইরে বের করে আনা হতে পারে তেল ভর্তি ট্যাঙ্কারগুলি।