
‘বিচার ব্যবস্থায় দুর্নীতি’ নিয়ে NCERT (National Council of Educational Research and Training)-এর অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকের চ্যাপ্টার। তোলপাড় পড়ে গিয়েছে দেশে। তীব্র ভর্ৎসিত হওয়ার পর শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছে কেন্দ্র। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আশ্বস্ত করেছেন, দোষীদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ইতিমধ্যেই এই 'বিতর্কিত' বইটি নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে NCERT।
‘বিচার বিভাগীয় দুর্নীতি’ সংক্রান্ত অধ্যায় তৈরির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের UGC বা কোনও মন্ত্রকের আওতায় আর কাজ করতে দেওয়া হবে না বলেও জানিয়েছে কেন্দ্র। যদিও দেশের সর্বোচ্চ আদালত এই সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট হতে পারেনি। এ প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, 'গুলি বন্দুক থেকে বেরিয়ে গিয়েছে। বিচার বিভাগ রক্তাক্ত হয়েছে আজ।'
বিতর্কের সূত্রপাত, NCERT-এর অষ্টম শ্রেণির সমাজ বিজ্ঞানের বইয়ের একটি অধ্যায়কে কেন্দ্র করে। যেখানে উল্লেখ করা হয়েছিল, বিচার বিভাগের নানা স্তরে রয়েছে দুর্নীতি রয়েছে। প্রসঙ্গত, বইটি NCERT-এর অষ্টম শ্রেণির সমাজ বিজ্ঞানের। বিচার বিভাগের ভূমিকা বর্ণনার অধ্যায়ে জুডিশিয়াল সিস্টেমের বিভিন্ন স্তরে দুর্নীতি, রায়দানে দেরি হওয়ার মতো বিষয়গুলি উল্লেখ করা রয়েছে। বিচারকের অভাব এবং জটিল আইনি প্রক্রিয়া, বিচার কাঠামোয় একাধিক বাধার কথাও বলা হয়েছে। এ ছাড়া আদালতে জমে থাকা বিপুল মামলার সংখ্যার কথাও উল্লেখ করেছে অষ্টম শ্রেণির ওই বইয়ের চ্যাপ্টার। তারপরই স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করে সুপ্রিম কোর্ট।
> সুপ্রিম কোর্ট NCERT-কে কেন্দ্র ও রাজ্য শিক্ষা দফতরের সঙ্গে সমন্বয় করে অষ্টম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞানের ওই বইটির সমস্ত কপি (মুদ্রিত কিংবা ডিজিটাল) অবিলম্বে জনসাধারণের নাগালের বাইরে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে।
> প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে স্কুলগুলিতে পাঠানো সব কপি দ্রুত বাজেয়াপ্ত করার দায়িত্ব NCERT পরিচালক দীনেশ প্রসাদ সাকলানিক উপর বর্তাবে। এই সংক্রান্ত একটি কমপ্লায়েন্স রিপোর্টও জমা দিতে হবে।
> আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, প্রত্যাহার করা পাঠ্যবইয়ের মুদ্রিত বা ডিজিটাল, কোনও সংস্করণ থেকেই ছাত্রছাত্রীদের পড়ানো যাবে না।
> অকিরিক্ত সতর্কতা হিসেবে আদালত বইটির মুদ্রণ ও বিতরণের উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
> সুপ্রিম কোর্ট NCERT-র পরিচালককে নির্দেশ দিয়েছে, সংশ্লিষ্ট অধ্যায় প্রণয়নে যুক্ত ন্যাশনাল সিলেবাস বোর্ডের সদস্যদের নাম ও যোগ্যতার বিবরণ জমা দিতে হবে। প্রয়োজনে কারণ দর্শানোর নোটিস জারি করার কথাও বলা হয়েছে।