
Meta-WhatsApp এর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের। দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। ক্ষোভের কারণ দেশের নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা লঙ্ঘন। নাগরিকদের গোপনীয়তার বিষয়ে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন প্রধান বিচারপতি। হোয়াটসঅ্যাপের মূল সংস্থা মেটাকে স্পষ্টভাবে বলেছেন যে কোনও মূল্যে নাগরিকদের গোপনীয়তার সঙ্গে আপস করা হবে না। ব্যবহারকারীদের কোনও ব্যক্তিগত তথ্য অন্য সংস্থার সঙ্গে শেয়ার করা যাবে না বলে জানায় সুপ্রিম কোর্ট।
WhatsApp-কে তাঁর নির্দেশ, "দেশের সংবিধানকে উপহাস করছেন। কীভাবে মানুষের গোপনীয়তার অধিকার নিয়ে এভাবে খেলতে পারেন? এর জন্য মানুষ আপনাদের টাকা দেয়? গ্রাহকদের কোনও বিকল্প নেই; একচেটিয়া ব্যবস্থা তৈরি করেছেন।"
প্রধান বিচারপতি হোয়াটসঅ্যাপ এবং মেটাকে ব্যবহারকারীদের তথ্য শেয়ার না করার জন্য হলফনামা দাখিল করতে বলেন। তিনি আরও বলেন, যদি এই ধরনের হলফনামা দাখিল না করা হয়, তাহলে মামলাটি খারিজ করে দেওয়া হবে।
সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে বলেন, আমাদের ব্যক্তিগত তথ্য কেবল বিক্রিই হয় না, বাণিজ্যিকভাবেও ব্যবহৃত হয়। প্রধান বিচারপতি বলেন, "একজন রাস্তার বিক্রেতা কীভাবে হোয়াটসঅ্যাপের শর্তাবলী বুঝবে? এই ধরনের শর্তাবলীর তদন্ত হওয়া উচিত।"
প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন করেন, দেশের বৃহৎ অংশ তারাই বা শর্তাবলী কীভাবে বুঝবে? সকলেই বাণিজ্যিক আগ্রহ জানেন, এটাও জানন যে কীভাবে গ্রাহকদের এই অ্যাপের প্রতি আসক্ত করে তুলেছেন। সবাই এটা ব্যবহার করে। তামিলনাড়ুর একটি গ্রামের মানুষ, যারা কেবল তাদের নিজস্ব ভাষা বোঝে, তারা কীভাবে আপনার শর্তাবলী বুঝতে পারে? আপনি অঙ্গীকারপত্র দিন। আমরা মামলাটির যোগ্যতার ভিত্তিতে শুনানি করব।
সুপ্রিম কোর্ট হোয়াটসঅ্যাপকে সতর্ক করে বলেন, নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ এবং বিক্রি করার জন্য নয়। এটি বার্তা এবং যোগাযোগ পরিষেবা প্রদানের জন্য। বিচারপতি বাগচী এদিন জানান, ডিপিডিপি আইন কেবল গোপনীয়তার কথা বলে। অনলাইন বিজ্ঞাপনের উদ্দেশ্যে ডেটা ব্যবহার করছেন।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বে তিন বিচারপতির বেঞ্চ জানিয়েছে যে, তাঁরা ১০ ফেব্রুয়ারি এই মামলায় বিস্তারিত নির্দেশ দেবে।