
জুম্মাবারেই পড়েছে এবারের সরস্বতী পুজো। সেক্ষেত্রে মধ্যপ্রদেশের ধর জেলার বিতর্কিত ভোজশালা কমপ্লেক্সে কারা উপাসনা করবে, তা নিয়ে তৈরি জটিলতার সমাধান করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট উভয় ধর্মের মানুষকেই শুক্রবার ভোজশালা কমপ্লেক্সে প্রার্থনা করার অনুমতি দিল। অর্থাৎ সরস্বতী পুজোর উৎসবের পাশাপাশি সেখানে জুম্মাবারের নমাজও পড়তে পারবেন।
উভয় ধর্মের মানুষদের সুবিধার্থে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, শুক্রবার দুপুর ১টা থেকে ৩টে পর্যন্ত জুম্মার নমাজ পাঠ করতে পারবেন মুসলিমরা। মসজিদের ভিতর একটি নির্দিষ্ট স্থানে নমাজ পাঠ করা যাবে। তবে নমাজের পরই জমায়েত খালি করে ফেলতে হবে এলাকা থেকে। একইরকম নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করতে হবে সরস্বতী পুজোর আয়োজনেও।
সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, 'একই চত্বরের ভিতরে পৃথক ও নির্দিষ্ট এলাকা নির্ধারণ করা হবে। নমাজ পাঠের জন্য আলাদা প্রবেশ ও প্রস্থান পথের ব্যবস্থাও রাখা হবে। যাতে শান্তিপূর্ণ ভাবে নমাজ পাঠ করা যায়। একই ভাবে বসন্ত পঞ্চমী উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের জন্য পৃথক একটি স্থান বরাদ্দ করা হবে।'
ভোজশালা কমপ্লেক্সটি একাদশ শতাব্দীর একটি ঐতিহাসিক সৌধ। যা ভারতীয় প্রত্নতত্ত্ব সর্বেক্ষণের অধীনে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই ভোজশালা বিতর্কিত। হিন্দুদের দাবি, এটি দেবী সরস্বতীর উদ্দেশে নিবেদিত একটি মন্দির। অন্যদিকে, মুসলিম সম্প্রদায় এটিকে কামাল মৌলা মসজিদ হিসেবে দাবি করে।
ভোজ উৎসব কমিটি ২৩ জানুয়ারি সারাদিন সরস্বতী পুজো করার অনুমতির জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছিল। অপরদিকে, মুসলিম সম্প্রদায় ওই দিনের গুরুত্ব উল্লেখ করে দুপুর ১টা থেকে ৩টে পর্যন্ত জুম্মার নমাজ পাঠের অনুমতি চেয়ে স্মারকলিপি জমা দিয়েছিল।
গত ২৩ বছর ধরে চালু থাকা একটি ব্যবস্থার অধীনে, ASI মঙ্গলবার ভোজশালায় হিন্দুদের পুজো করার অনুমতি দেয়। শুক্রবার মুসলিমদের নমাজ পাঠের অনুমতি দেওয়া হয়। মুসলিম সম্প্রদায় ভোজশালা আউটপোস্টের মাধ্যমে ASI-এর পরিচালকের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়ে ২৩ জানুয়ারি নির্বিঘ্নে জুম্মার নমাজ পাঠের অনুমতির আবেদনও জানায়।
এর আগে ২০১৬ সালে এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, যখন বস্ত পঞ্চমী শুক্রবার পড়েছিল। সে সময়ে বিতর্কিত স্থানে প্রার্থনার সময়সূচি নিয়ে ধর শহরে বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ASI ভোজশালা-কামাল মৌলা মসজিদ কমপ্লেক্সের বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের ইন্দোর বেঞ্চে জমা দেয়। এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া বর্তমানে চলছে।