
EPFO-এর আওতায় থাকা দেশের কোটি কোটি বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আগামি চার মাস খুবই গুরত্বপূর্ণ হতে চলেছে। কারণ, সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারকে EPFO-এর বেতন সীমা বাড়ানো নিয়ে একটা স্পষ্ট ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বলেছে।
আসলে এখনও পর্যন্ত বেসিক স্যালারি ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত হলেই EPF পাওয়া যায়। তবে বেসিক তার বেশি হলেও সেই মতো সুবিধা পাওয়া যায় না। আর এই জায়গাতেই নতুন নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। তাদের পক্ষ থেকে বিচারপতি জে কে মাহেশ্বরী ও বিচারপতি এ এস চন্দুরকরের বেঞ্চ নতুন এক নির্দেশ দিয়েছেন।
আসলে এই বেতনসীমা বাড়ানোর বিষয়টা নিয়ে আবেদন করেছিলেন সমাজকর্মী নবীন প্রকাশ নৌটিয়াল। তিনি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন।
নৌটিয়াল তাঁর আবেদনে দাবি করেছিলেন যে বর্তমানে কর্মচারী ভবিষ্যনিধি সংস্থা (EPFO) মাসিক ১৫ হাজার টাকার বেশি পাওয়া কর্মীদের এই প্রকল্পের আওতার বাইরে রাখছে। আর সেই মামলাতেই কোর্ট রায় দিল আজ।
সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ মামলার নিষ্পত্তি করতে গিয়ে আবেদনকারীকে একাধিক নির্দেশ দিয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে আদেশ দেওয়া হয়েছে যে এই রায়ের একটি কপি জুড়ে দিয়ে দুই সপ্তাহের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে একটি আবেদন জমা দিতে হবে।
এর পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারকেও নির্দেশ দিয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে জানান হয়েছে, EPFO-র বেতনসীমা পরিবর্তন সংক্রান্ত বিষয়ে চার মাসের মধ্যে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সেটা জানাতে হবে আদালতকে।
আবেদনকারীর আইনজীবী প্রণব সচদেবা ও নেহা রাঠি আদালতে যুক্তি দেন, গত ১১ বছর ধরে বেতনসীমায় কোনও পরিবর্তন করেনি কেন্দ্রীয় সরকার। অথচ কেন্দ্র সরকার ও একাধিক রাজ্য সরকারের কর্মীদের নির্ধারিত ন্যূনতম বেতন EPFO-র মাসিক ১৫ হাজার টাকার বেতনসীমার তুলনায় অনেক বেশি।
আবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত ৭০ বছরে বেতনসীমার পুনর্বিবেচনা ভীষণই খামখেয়ালি ভাবে করা হয়েছে। অনেক সময় ১৩–১৪ বছর অন্তর এই সংশোধন হয়েছে। এই সময়ে মুদ্রাস্ফীতি, ন্যূনতম বেতন বা মাথাপিছু আয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সূচকের সঙ্গে এর কোনও সামঞ্জস্য রাখা হয়নি।
এই অসামঞ্জস্যের ফলেই EPF প্রকল্পের আওতায় আগের তুলনায় বর্তমানে অনেক কম সুবিধা পাচ্ছেন। EPFO-র একটি উপ-কমিটি ২০২২ সালে বেতনসীমা বাড়িয়ে দেওয়ার সুপারিশ করেছিল। কেন্দ্রীয় বোর্ড সেই সুপারিশ অনুমোদনও করেছিল। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কেন্দ্র সরকার এ বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।