
আগামী সোমবার, ২৬ জানুয়ারি দেশজুড়ে সাড়ম্বরে পালিত হবে প্রজাতন্ত্র দিবস যা বর্তমানে সাধারণতন্ত্র দিবস হিসেবে উদযাপিত হয়। প্রায় ২০০ বছরের ইংরেজ শাসনের অবসানের পর ১৯৪৭ সালের ১৫ অগাস্ট দেশ স্বাধীন হয়। এর ঠিক দু'বছর ১১ মাস এবং ১৮ দিন পর ভারতের সংবিধান রচিত হয়। ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি থেকে ভারতে সংবিধান কার্যকর হয়। সেই থেকেই এই দিনটিকে ভারতবাসী প্রজাতন্ত্র দিবস হিসেবে উদযাপন করে আসছে। পরবর্তীতে 'প্রজা' শব্দটি বাতিল করা হয়েছে। এখন ২৬ জানুয়ারি পালিত হয় সাধারণতন্ত্র দিবস। যদিও অধিকাংশ মানুষই বিভ্রান্ত, এটি ৭৬ না ৭৭ কততম সাধারণতন্ত্র দিবস।
প্রতি বছরই প্রথা মেনে দিল্লিতে কর্তব্য পথে রাষ্ট্রপতি জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজের আয়োজন করা হয়। সশস্ত্র সেনা, স্কুল-কলেজের পড়ুয়ারা অংশ নেন সেই কুচকাওয়াজে। প্রতিটি রাজ্যের সুসজ্জিত ট্যাবলো প্রদর্শিত হয়।
ভারতের ইতিহাসে এই দিনটির গুরুত্ব অপরিসীম। ১৯৫০ সালে এই ২৬ জানুয়ারিই ঠিক সকাল ১০টা ১৮ মিনিটে ভারত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মর্যাদা পায়। এর ঠিক ৬ মিনিট বাদে এই ঐতিহাসিত মুহূর্তকে উদযাপন করতে দেশের রাষ্ট্রপতি ডা. রাজেন্দ্র প্রসাদ শপথ গ্রহণ করেছিলেন।
এ বছর কততম সাধারণতন্ত্র দিবস?
১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি দেশে প্রথম প্রজাতন্ত্র দিবস (বর্তমানে সাধারণতন্ত্র দিবস) উদযাপিত হয়। ১৯৫১ সালের এই দিনটিতে হয় দ্বিতীয়, ১৯৫৯ সালে দশম, ১৯৬৯ সালে ২০তম, ১৯৯৯ সালে ৫০তম ,সাধারণতন্ত্র দিবস পালিত হয়। এই হিসেব অনুযায়ী, ২০২৬ সালে দেশের পালিত হবে ৭৭তম সাধারণতন্ত্র দিবস।
বার্ষিকী এবং দিবসের মধ্যে গুলিয়ে ফেলে অধিকাংশ মানুষই বিভ্রান্তিক শিকার হন। দু'টো বিষয় সম্পূর্ণ আলাদা। ২০২৬ সালের ২৬ জানুয়ারি ৭৭তম সাধারণতন্ত্র দিবস এবং সাধারণতন্ত্রের ৭৬তম বার্ষিকী।
১৯৩০ সালের ২৬ জানুয়ারি প্রথম স্বাধীনতা দিবস পালিত হয়। এই দিনটিকে স্বাধীনতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। মহাত্মা গান্ধী দিনটির নাম দিয়েছিলেন, ‘স্বতন্ত্রতা সংকল্প দিবস’। পরে ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ব্রিটিশদের কাছ থেকে ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে স্বাধীনতা পায় ভারত। স্বাধীনতার প্রায় আড়াই বছর পর তৈরি হয় দেশের সংবিধান। ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি কার্যকর করা হয় দেশের সংবিধান। সেই সূত্র ধরেই ২৬ জানুয়ারিকে প্রজাতন্ত্র দিবস বা সাধারণতন্ত্র দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়।