Advertisement

Supreme Court: স্তন টিপে ধরা, পায়জামার দড়ি খোলাও ধর্ষণের চেষ্টা, বলল সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ খারিজ

এলাহাবাদ হাইকোর্টের মন্তব্যের সঙ্গে একমত দেশের শীর্ষ আদালত। ধর্ষণ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য বাতিল করার নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, স্তন চেপে ধরা বা পায়জামার দড়ি খোলা ধর্ষণের চেষ্টা।

Aajtak Bangla
  • নয়াদিল্লি,
  • 18 Feb 2026,
  • अपडेटेड 2:20 PM IST
  • এলাহাবাদ হাইকোর্টের মন্তব্য খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট
  • ধর্ষণ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য বাতিল করার নির্দেশ
  • স্তন চেপে ধরা, পায়জামার দড়ি খোলা ধর্ষণেরই চেষ্টা

এলাহাবাদ হাইকোর্টের ধর্ষণ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য বাতিল করার নির্দেশ দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছিল, নাবালিকার স্তন চেপে ধরা কিংবা তার পায়জামার দড়ি খুলে দেওয়া ধর্ষণের চেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হবে না। 

বুধবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি এনভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চ কড়া ভাবে জানায়, যৌন অপরাধ সংক্রান্ত মামলায় বিচার করতে হলে শুধুমাত্র আইনি বিশ্লেষণ নয়, সহমর্মিতাও অপরিহার্য। শীর্ষ আদালতের মন্তব্য, 'অভিযোগগুলি ধর্ষণের প্রচেষ্টা নয়, হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে আমরা একমত নই।'

২০২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি দেওয়া রায়ে বেঞ্চ আরও জানায়, আদালত যদি মামলাকারীদের প্রতি সংবেদনশীল না থাকে তবে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। 

বিতর্কের সূত্রপাত
২০২৫ সালের ১৭ মার্চ এলাহাবাদ হাইকোর্ট দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে জারি হওয়া সমন আদেশে পরিবর্তন করার সময়ে বিতর্কিত ওই মন্তব্য করেছিল। অভিযোগ ছিল, পবন ও আকাশ নামে দুই ব্যক্তি এক ১১ বছরের কিশোরীর স্তন চেপে ধরে, তার পায়জামার দড়ি ছিঁড়ে ফেলে এবং তাকে একটি কালভার্টের নীচে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পথচারীরা দেখে ফেলায় তারা পালিয়ে যায়।

ট্রায়াল কোর্ট মনে করেছিল, এটি ধর্ষণের চেষ্টা বা পকসো আইনের অধীনে অনুপ্রবেশমূলক যৌন নির্যাতনের পর্যায়ে পড়ে। তাই ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬ ধারা (ধর্ষণ) এবং Protection of Children from Sexual Offences Act-এর ১৮ ধারায় চার্জশিট গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়।

কিন্তু এলাহাবাদ হাইকোর্টের অভিযোগের ধারা বদলে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৫৪-বি ধারা (বস্ত্র খোলার উদ্দেশ্যে আক্রমণ বা বলপ্রয়োগ) এবং পকসো আইনের ৯/১০ ধারায় (গুরুতর যৌন নির্যাতন) মামলা করা হয়। 

বিচারপতি রাম মনোহর নারায়ণ মিশ্র তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, 'অভিযুক্তরা দড়ি ছিঁড়তে গিয়ে ধরা পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই পালিয়ে যায় এবং ঘটনায় এমন কোনও প্রমাণ নেই যা থেকে বোঝা যায় যে তারা ধর্ষণ করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিল।'

Advertisement

সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ
এই পর্যবেক্ষণের পর সুপ্রিম কোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলাটি গ্রহণ করে এবং ২০২৫ সালের ২৬ মার্চ এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায় কার্যকর করার উপর স্থগিতাদেশ দেয়। 

ঘটনায় এমন কোনও প্রমাণ নেই যা থেকে বোঝা যায় যে তারা ধর্ষণ করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিল। 

এর পরিবর্তে আদালত ভোপালের National Judicial Academy-কে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয়। এই কমিটির কাজ হবে যৌন অপরাধ ও অন্যান্য সংবেদনশীল মামলায় বিচারকদের মধ্যে সহমর্মিতা ও সংবেদনশীলতা বাড়ানোর লক্ষ্যে একটি প্রতিবেদন ও খসড়া নির্দেশিকা তৈরি করা। কমিটিকে তিন মাসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। নির্দেশিকাগুলি যেন সহজ ভাষায় লেখা হয় এবং ভারতের ভাষাগত বৈচিত্র্যকে বিবেচনায় রেখে সাধারণ মানুষের কাছেও বোধগম্য হয়। সে বিষয়েও জোর দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

রায়ে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টভাবে জানায়, বিচার প্রক্রিয়ার প্রতিটি স্তরে, প্রক্রিয়া নির্ধারণ থেকে চূড়ান্ত রায়, হানুভূতি, মানবিকতা ও বোঝাপড়ার প্রতিফলন থাকতে হবে। একটি ন্যায়সঙ্গত ও কার্যকর বিচারব্যবস্থা গড়ে তুলতে এই মূল্যবোধ অপরিহার্য।

 

Read more!
Advertisement
Advertisement