Advertisement

India-China Conflict : শাকসগাম উপত্যকা নিয়ে ভারত-চিনের দ্বন্দ্বের কারণ কী?

এক বছরও গেল না। পূর্ব লাদাখ নিয়ে রফাসূত্রে এসেছিল ভারত-চিন। তবে এবার ফের শাকসগামের আকাশে সীমান্ত-বিরোধের কালো মেঘ। ফের ঘনাচ্ছে চিন-ভারত সংঘাতের আবহ। এমনটাই মত আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের।

সিয়াচেনে মোতায়েন ভারতীয় জওয়ানরা সিয়াচেনে মোতায়েন ভারতীয় জওয়ানরা
Aajtak Bangla
  • দিল্লি ,
  • 13 Jan 2026,
  • अपडेटेड 10:10 PM IST
  • এবার ফের শাকসগামের আকাশে সীমান্ত-বিরোধের কালো মেঘ
  • ফের ঘনাচ্ছে চিন-ভারত সংঘাতের আবহ

এক বছরও গেল না। পূর্ব লাদাখ নিয়ে রফাসূত্রে এসেছিল ভারত-চিন। তবে এবার ফের শাকসগামের আকাশে সীমান্ত-বিরোধের কালো মেঘ। ফের ঘনাচ্ছে চিন-ভারত সংঘাতের আবহ। এমনটাই মত আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের। লাদাখের সিয়াচেন হিমবাহের পূর্বপ্রান্তের শাকসগাম উপত্যকায় দীর্ঘ দিন ধরেই পরিকাঠামো তৈরি করছে চিন। তাতে আপত্তি জানিয়েছে ভারত। পাক অধিকৃত কাশ্মীরের এই জায়গাটি চিনের হাতে তুলে দিয়েছিল পাক প্রশাসন। কিন্তু ভারতের বিদেশমন্ত্রক সাফ জানিয়েছে, তারা এই চুক্তি মানে না। তা অবৈধ। 

পূর্ব কারাকোরাম পর্বতমালায় সিয়াচেন হিমবাহের কাছে অবস্থিত শাকসগাম উপত্যকা। ট্রান্স কারাকোরাম ট্র্যাক্ট নামেও পরিচিত এই জায়গাটি উত্তরে চিনের জিনজিয়াং অঞ্চল এবং দক্ষিণ ও পশ্চিমে পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের সীমান্তে অবস্থিত। তবে বর্তমানে ভারত যে বিষয়টি নিয়ে সবথেকে বেশি সতর্ক, তা হল ওই এলাকায় চিনের রাস্তা নির্মাণ। রাস্তাটি প্রায় ৭৫ কিলোমিটার দীর্ঘ। 

বিদেশ মন্ত্রক সাফ জানিয়ে দিয়েছে, শাকসগাম উপত্যকার ওই অঞ্চলটি ভারতীয় ভূখণ্ডের অংশ। ভারত নিজের স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রাখে। ১৯৬৩ সালে চিনের সঙ্গে পাকিস্তানের স্বাক্ষরিত চুক্তিকে ভারত কোনওদিন স্বীকৃতি দেয়নি। যদিও চিন ভারতের দাবিকে অনায্য বলেছে। 

আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের দাবি, চিনের এই কার্যক্রম থেকে পরিষ্কার তারা মুখে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক উন্নত করার কথা বললেও আসলে শেহবাজ শরিফকে ব্যবহার করে দুই দেশের মধ্যে দ্বন্দ্ব বজায় রাখার চেষ্টা করছে। 

শাকসগাম কেন ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ? 

ভারতের জন্য শাকসগাম দুটি কারণে গুরুত্বপূর্ণ। যথা আঞ্চলিক ও সামরিক। এই উপত্যকাটি বিশ্বের সর্বোচ্চ যুদ্ধক্ষেত্র সিয়াচেন হিমবাহের কাছে অবস্থিত। এছাড়াও এই অঞ্চলে থাকা কারাকোরাম পাস সরাসরি প্রবেশাধিকার দেয়। এই সিয়াচেন থেকে ভারত পাকিস্তানের উপর সরাসরি নজরদারি চালাতে পারে। অন্যদিকে কারাকোরাম পাশ চিনের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য কৌশলগত পয়েন্ট। সেকারণে শাকসগাম ভারতের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ জায়গা।

এই এলাকা নিয়ে ভূ-কৌশলবিদ ব্রহ্ম চেলানি জানান, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময় চিন এই উপত্যকায় একটা রাস্তা তৈরি করে। এখন ওই এলাকা বরাবর চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর তৈরি করতে চাইছে বেজিং।

Advertisement

চিনের হাতে এই এলাকা তুলে দিয়েছিল পাকিস্তান 

১৯৬৩ সালে এই এলাকা চিনের হাতে তুলে দেয় পাকিস্তান। ভারত এর বিরুদ্ধে বরাবর আপত্তি জানিয়ে এসেছে। এখনও প্রতিবাদ করেছে। তবে উপত্যকাটি দখল করার জন্য ভৌগোলিকভাবে কোনও প্রচেষ্টা করেনি। 

১৯৪৭ সালের অক্টোবরে জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়। শাকসগামও ভারতের অংশ হয়ে ওঠে। তবে পাকিস্তান জোরপূর্বক দখলের কারণে ভারত ওই এলাকার উপর ভৌগলিক নিয়ন্ত্রণ প্রয়োগ করেনি। ১৯৫০-এর দশকে চিন পূর্ব হুঞ্জার অঞ্চলগুলিতে প্রবেশ শুরু করে। এর ফলে ভারত-চিন সম্পর্কের  অবনতি হয়। পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধান সেই সুযোগে চিনকে খুশি করার চেষ্টা করেন। ১৯৬৩ সালে পাকিস্তান ভারতের উদ্বেগ উপেক্ষা করে ইয়ারকান্দ নদী ও  শাকসগাম চিনের হাতে তুলে দেয়। 
 


 
Read more!
Advertisement
Advertisement