Advertisement

সরকারি সম্পত্তির নগদীকরণ সংসদে আলোচনা না করেই, প্রতিবাদে TMC

ছয় লক্ষ কোটি টাকার 'ন্যাশনাল মনিটাইজেশন পাইপলাইন' প্রকল্প চালুর ঘোষণা করেছেনে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। সোমবার এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেই কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী জানিয়ে দেন নয়া প্রকল্পের হাত ধরে দেশের কোনও সম্পত্তি বিক্রি করছে না সরকার। কেন্দ্রের নয়া এই আর্থিং সংস্কার পলিসি নিয়েই এবার প্রশ্ন তুলল তৃণমূল কংগ্রেস।

সংসদে আলোচনা না করেই NMP, অভিযোগ তৃণমূলেরসংসদে আলোচনা না করেই NMP, অভিযোগ তৃণমূলের
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 24 Aug 2021,
  • अपडेटेड 1:42 PM IST
  • 'ন্যাশনাল মনিটাইজেশন পাইপলাইন' প্রকল্প চালুর ঘোষণা করেছেনে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী
  • কিন্তু সংসদে আলোচনা না করেই NMP
  • মোদী সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নামছে TMC

ছয় লক্ষ কোটি টাকার 'ন্যাশনাল মনিটাইজেশন পাইপলাইন' প্রকল্প চালুর ঘোষণা করেছেনে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। সোমবার এই  প্রকল্পের উদ্বোধন করেই  কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী জানিয়ে দেন  নয়া প্রকল্পের হাত ধরে দেশের কোনও সম্পত্তি বিক্রি করছে  না সরকার। যে সমস্ত সম্পত্তি কম ব্যবহার করা হয়, তার থেকে আর্থিক লাভ পাওয়ার চেষ্টায় নয়া উদ্যোগ শুরু করেছে সরকার। আপাতত চার বছরের দিকে তাকিয়ে এই নয়া উদ্যোগ শুরু করছে মোদী সরকার। কেন্দ্রের নয়া এই আর্থিং সংস্কার পলিসি নিয়েই এবার প্রশ্ন তুলল তৃণমূল কংগ্রেস। সংসদে এই নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি বলেই অভিযোগ করেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ শুভেন্দু শেখর রায়। তৃণমূল এই নীতির প্রতিবাদ করবে বলেই জানিয়েছেন সুখেন্দু শেখর রায়। 

তৃণমূলের তরফে কেন্দ্রের  'ন্যাশনাল মনিটাইজেশন পাইপলাইন' নীতির সমালোচনা করে বলা হয় সাধারণ মানুষের এতে সমর্থন নেই। কারণ বিজেপির ইস্তেহারে এর উল্লেখ ছিল না। এই কেন্দ্রের বেসরকারি করমের দিকে এগনোর একটি পদক্ষেপ।  তিনি বলেন, "এটা উদ্বেগজনক যে বেসরকারি খাতকে চিরস্থায়ী ইজারা দেওয়া হয়েছ এবং এই ইজারা আরও বাড়ানো যেতে পারে। এটি ইকো সিস্টেম ধ্বংস করবে। কাজের নিরাপত্তা আর থাকবে না বরং যেকোন সময় কর্মীদের কাজ থেকে বার করে দেওয়া হতে পারে। কোনো হরতাল বা বিক্ষোভ অনুমোদিত হবে না।"  রাজ্যসভায় তৃণমূলের সংসদীয় দলনেতার অভিযোগ, "এই সরকার এটি করছে কারণ দেউলিয়া হয়ে গেছে। এই সরকার সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করছে না কিন্তু কর্পোরেট কোম্পানিগুলির জন্য কাজ করছে। আমরা এই ধরনের অর্থনৈতিক সংস্কারের বিরোধিতা করি।" তৃণমূল শিবিরের আরও  অভিযোগ এই নীতিতে আসা  টাকার একটি অংশ বিজেপি পার্টি অফিসে  যাচ্ছে। সুখেন্দুবাবু  প্রধানমন্ত্রীর দুটি বিমানের খরচ নিয়েও কটাক্ষ করেন এদিন। 

প্রসঙ্গত, ২০২১-২২ সালের সাধারণ বাজেটে অর্থমন্ত্রী সীতারামন সরকারি সম্পত্তির নগদীকরণের ঘোষণা করেছিলেন। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, আয় বৃদ্ধির উপায় হিসেবে মনিটাইজেশন পাইপলাইনের ব্যবহার করা হবে। সোমবার সেটাই চালু করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। অর্থ মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, এই প্রকল্পের আওতায় রয়েছে সড়ক, রেল, বিমানবন্দর, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ-সহ একাধিক ক্ষেত্র। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর  দাবি, সরকার সম্পত্তি বিক্রির পথে যাচ্ছে না, বরং তা আরও ভাল ভাবে ব্যবহারের রূপরেখা তৈরি হচ্ছে। নির্মলা সীতারমন আরও জানিয়েছেন, কেবলমাত্র অব্যবহৃত এবং কম ব্যবহৃত বৃহৎ সরকারি সম্পত্তি (ব্রাউন ফিল্ড)-কেই পাইপলাইনের আওতায় আনা হবে। এ জন্য বেসরকারি অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। নির্দিষ্ট সময় পর সরকারকে সম্পত্তি ফিরিয়ে দিতে হবে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি সংস্থাকে।

Advertisement

‘জাতীয় মনেটাইজেশন পাইপলাইন’কী ?
জনসাধারণের জন্য তৈরি ইনফ্রাস্ট্রাকচার থেকে টাকা তোলাই এর মূল উদ্দেশ্য। এই উদ্যোগে ইন ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ট্রাস্ট তৈরি হবে। সেখানে দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন সংস্থা বিনিয়োগ করতে পারবে। এর ফলে সাধারণের জন্য আরও প্রজেক্ট, যেমন রাস্তা, তৈরি সম্ভব হবে। রেল ও তাদের ফ্রাইট করিডর ব্যবহার করে এবং আরও পরে বিমানবন্দর গুলি থেকে টাকা তোলা হবে। এর ফলে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আর আলাদা টাকার ওপর ভরসা করতে হবে না। ‘ন্যাশনাল মনিটাইজেশন পাইপলাইন’ চালু করে সীতারামন বলেন, ‘অর্থনীতির উৎসগুলো খুলে দেওয়া হবে। তবে সরকার কোনও সম্পত্তি বিক্রি করবে না। কেবল কম ব্যবহৃত প্রকল্পগুলো থেকে আয়ের বন্দোবস্ত করা হবে।

কোথা থেকে  এই ‘মানিটাইজেশন’ হবে?
যেখান থেকে টাকা তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে NHAI- এর টোল, রাস্তা। এ ছাড়া এই তালিকায় রয়েছে, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির বিমানবন্দর যা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের অধীনে পড়ে, GAIL -এর তেলের পাইপলাইন, কেন্দ্রীয় ভান্ডার ঘর ও খেলার স্টেডিয়াম ইত্যাদি। সরকারি সূত্রের খবর যে নীতিতে নয়া প্রকল্পগুলি চালু করা হচ্ছে, তাতে বহু প্রকল্পের ক্ষেত্রে আলাদা করে আর  রক্ষণাবেক্ষণে খরচ  করতে হবে না। বরং বিভিন্ন সম্পত্তির সঠিক ব্যবহার করেই করোনা বিধ্বস্ত অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে তোলা যাবে।

 

Read more!
Advertisement
Advertisement