
Strongest Military Countries 2026: শুধু অর্থনীতি নয়। বর্তমান যুগে কোন দেশ কতটা শক্তিশালী তার মূল ভিত হল তার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। Defence-এ বিশ্বের সেরা ১০ শক্তিধর দেশ কারা? এই তালিকায় ভারতেরই বা অবস্থান কোথায়? আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষণে ডিফেন্স বাজেট, সেনাবাহিনীতে জওয়ানের সংখ্যা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, পারমাণবিক অস্ত্র, নৌ ও বিমান শক্তি এবং যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত মোতায়েনের সক্ষমতা দিয়ে বিচার করা হয়। এই সমস্ত সূচকের উপর ভিত্তি করেই একটি দেশের সামরিক শক্তি নির্ধারিত হয়।
বর্তমানে এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে United States। বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা বাজেট, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, স্টেলথ ফাইটার জেট, নিউক্লিয়ার সাবমেরিন; সব দিক থেকেই আমেরিকা এখনও শীর্ষে।
দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে Russia। তাদের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। আর্মিও বেশ শক্তিশালী।
তৃতীয় স্থানে রয়েছে China। চিন কিন্তু গত কয়েক বছরে বেশ দ্রুত গতিতে তাদের সামরিক শক্তি বাড়িয়েছে। পাশাপাশি ড্রোন ও মিসাইল প্রযুক্তিতেও অনেক এগিয়ে চিন।
এই তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছে ভারত(India)। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সেনাবাহিনী ভারতেরই। এর পাশাপাশি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র, এয়ার ডিফেন্স এবং অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিই ভারতের শক্তির মূল চাবিকাঠি। আর সেই কারণেই বিশ্বের তাবড় দেশদের তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে ভারত। আরও একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ভারতের ‘নিউক্লিয়ার ট্রায়াড’ ক্ষমতা। সহজ ভাষায় বললে, ভারত চাইলে স্থল, জল এবং আকাশপথে, তিন দিক থেকেই পারমাণবিক হামলা চালাতে পারে।
পঞ্চম স্থানে রয়েছে United Kingdom, এরপর রয়েছে Japan, France, South Korea, Italy এবং দশম স্থানে Turkey।
প্রযুক্তিগত দিক থেকে বর্তমানে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এসেছে। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), সাইবার যুদ্ধ, ড্রোন প্রযুক্তি এবং স্যাটেলাইট নজরদারিই গেমচেঞ্জান হয়ে উঠেছে। উদাহরণস্বরূপ, স্টেলথ প্রযুক্তি এমন ভাবে তৈরি করা হয় যাতে শত্রুপক্ষের রাডারে ধরা না পড়ে। আবার হাইপারসনিক মিসাইল শব্দের চেয়ে বহু গুণ দ্রুত গতিতে চলতে পারে।
ভারতও এই প্রযুক্তিগত উন্নয়নে পিছিয়ে নেই। ভারতীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র, পরমাণু সাবমেরিন এবং উন্নত যুদ্ধবিমানের মাধ্যমে ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আগের তুলনায় আরও শক্তিশালী হয়েছে। পাশাপাশি, ডিআরডিও-র গবেষণা এবং 'মেক ইন ইন্ডিয়া' উদ্যোগে প্রতিরক্ষা উৎপাদন বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু অস্ত্রের সংখ্যা নয়। বরং প্রযুক্তিগত দক্ষতা, তথ্য সংগ্রহ ক্ষমতা এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর ক্ষমতাই ভবিষ্যতের যুদ্ধের মূল চাবিকাঠি। সেই দিক থেকে ভারত দ্রুত এগোচ্ছে বলেই মনে করা হচ্ছে।