
ঝাড়খণ্ডের সারেন্ডার জঙ্গলে নিরাপত্তাবাহিনীর অভিযানে খতম মাওবাদী নেতা পাতিরাম মাঝি ওরফে অনল। মৃতের মাথার দাম ছিল ১ কোটি টাকা। বৃহস্পতিবার ঝাড়খণ্ডের পশ্চিম সিংভূম জেলার সারান্ডা জঙ্গলে মাওবাদীদের সঙ্গে তীব্র বন্দুকযুদ্ধের পর এই সাফল্য পায় যৌথ নিরাপত্তাবাহিনী।
কিরিবুরু থানার অন্তর্গত সারান্ডা বনের কুমদি এলাকায় সংঘর্ষটি হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই এনকাউন্টারে খতম হয়েছে শীর্ষ মাওবাদী নেতা পতিরাম মাঝি ওরফে অনল, যার মাথার দাম ছিল ১ কোটি টাকা। অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদও উদ্ধার করা হয়েছে।
একজন পুলিশ আধিকারিক জানান, 'আমরা এখনও পর্যন্ত ১৫ জন মাওবাদীর মৃতদেহ উদ্ধার করেছি। নিহতদের মধ্যে সংগঠনের অন্যতম শীর্ষ নেতা আনাল দাও রয়েছে। সকাল ৬টা নাগাদ গুলির লড়াই শুরু হয় এবং এখনও অপারেশন চলছে।'
পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার থেকেই সারান্ডা জঙ্গলে মাওবাদী দমন অভিযান চালানো হচ্ছিল। তবে বৃহস্পতিবার ভোরেই নিরাপত্তাবাহিনী ও মাওবাদীদের মধ্যে গুলি বিনিময় শুরু হয়। এই অভিযানে সিআরপিএফ-এর বিশেষ বাহিনী ‘কোবরা’-র প্রায় ১,৫০০ জওয়ান অংশ নিয়েছেন।
ঝাড়খণ্ড পুলিশের আইজি (অপারেশনস) মাইকেল রাজ এস পিটিআইকে জানান, সারান্ডা জঙ্গলে অনল ও তাঁর সশস্ত্র দলের উপস্থিতি সম্পর্কে নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পরই এই অভিযান শুরু করা হয়। গিরিডিহ জেলার পিরতান্ড এলাকার বাসিন্দা আনাল দা ১৯৮৭ সাল থেকেই মাওবাদী কার্যকলাপে সক্রিয় ছিল। দীর্ঘদিন ধরেই সে পুলিশের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় ছিল।
এদিকে, সোমবার সিআরপিএফ-এর মহাপরিচালক জ্ঞানেন্দ্র প্রতাপ সিং পশ্চিম সিংভূম জেলার সদর দপ্তর চাইবাসা পরিদর্শন করেন। নিরাপত্তা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি অভিযানের অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা হয়। পুলিশ আধিকারিকদের মতে, কোলহান ও সারান্ডা অঞ্চলই এখন ঝাড়খণ্ডে মাওবাদীদের শেষ বড় শক্ত ঘাঁটি। তবে বুদা পাহাড়, চাতরা, লাতেহার, গুমলা, লোহারদাগা, রাঁচি ও পরশনাথের মতো এলাকায় ধারাবাহিক অভিযানের ফলে মাওবাদী কার্যকলাপ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।