
ক্যানসারের ওষুধ ও বিরল রোগের মে়ডিসিনে শুল্কছাড়ের ঘোষণা। শনিবার কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬-এ স্বাস্থ্যক্ষেত্র সংক্রান্ত বেশ কিছু ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। জানালেন, ক্যানসার-সহ একাধিক গুরুতর রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ১৭টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধকে সম্পূর্ণ শুল্কমুক্ত আমদানির অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, আরও সাতটি বিরল রোগকে একটি বিশেষ তালিকায় যোগ করা হয়ছে। এই রোগগুলির চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধের ক্ষেত্রে আমদানিতে শুল্ক ছাড় দেওয়া হবে।
এর ফলে দেশে শুল্কমুক্ত আমদানি করা যায়, এমন 'ক্রিটিক্যাল মেডিসিন'-এর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১২৯-এ। আগে ৫১টি বিরল রোগ এই সুবিধার আওতায় ছিল। এই নতুন সংযোজনের ফলে সেই সংখ্যা বেড়ে হল ৫৮। স্বাস্থ্য মন্ত্রক ও নীতিনির্ধারকদের মতে, এই সিদ্ধান্তে ক্যানসার ও বিরল রোগে আক্রান্ত হাজার হাজার রোগী এবং তাঁদের পরিবার সরাসরি উপকৃত হবেন।
কোন কোন ওষুধ শুল্কমুক্ত তালিকায়
যে ১৭টি ওষুধকে শুল্কছাড় দেওয়া হল, তার বেশিরভাগই অত্যাধুনিক ক্যানসার থেরাপিতে ব্যবহৃত হয়। তালিকায় রয়েছে Ribociclib, Abemaciclib, Venetoclax, Ceritinib, Brigatinib, Darolutamide-এর মতো ক্যানসারের ওষুধ। পাশাপাশি, ইমিউনোথেরাপিতে ব্যবহৃত Tremelimumab, Ipilimumab, Toripalimab, Serplulimab এবং Tislelizumab-ও রয়েছে। এছাড়াও Talycabtagene autoleucel-এর মতো সেল ও জিন থেরাপির ওষুধ রয়েছে । এগুলি অত্যন্ত দামি ওষুধ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ওষুধগুলির আমদানিতে শুল্ক ছাড় মিললে চিকিৎসার মোট খরচ উল্লেখযোগ্য ভাবে কমতে পারে।
বিরল রোগের তালিকায় নতুন সংযোজন
এবার যে সাতটি বিরল রোগকে শুল্কছাড়ের আওতায় আনা হল, সেগুলি হল Congenital Hyperinsulinemic Hypoglycemia (CHI), Familial Homozygous Hypercholestrolemia, Alpha Mannosidosis, Primary Hyperoxaluria, Cystinosis, Hereditary Angioedema এবং Primary Immune Deficiency Disorders। এই সব রোগই ন্যাশনাল পলিসি ফর রেয়ার ডিজিজ (NPRD), ২০২১-এর অন্তর্ভুক্ত। দীর্ঘদিন ধরেই বিরল রোগে আক্রান্ত রোগী সংগঠনগুলির এই দাবি ছিল। এই রোগগুলির চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। প্রয়োজনীয় ওষুধ বিদেশ থেকেই আনাতে হয়।
এর আগের বাজেটেও এমনই ঘোষণা ছিল
উল্লেখ্য, গত অর্থবর্ষ ২০২৫-২৬-এর বাজেটেও ক্যানসার, বিরল রোগ এবং দীর্ঘস্থায়ী গুরুতর রোগে আক্রান্ত রোগীদের স্বস্তি দিতে ৩৬টি জীবনদায়ী ওষুধকে সম্পূর্ণ শুল্কমুক্ত করা হয়েছিল। পাশাপাশি, আরও ছ’টি গুরুত্বপূর্ণ ওষুধে ৫ শতাংশ হারে ছাড় দেওয়া হয়েছিল। এবারের বাজেট সেই ধারাবাহিকতাকেই আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের।