
Gaza Peace Board: ইজরায়েল-হামাস যুদ্ধ থামাতে এবং গাজার ভবিষ্যৎ প্রশাসন গড়ে তুলতে আমেরিকার উদ্যোগে তৈরি হচ্ছে ‘গাজা বোর্ড অব পিস’। এই বোর্ডে ভারতসহ আরও চারটি দেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানাল যুক্তরাষ্ট্র। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই প্রস্তাব বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
বোর্ডের মূল কাজ হবে গাজার দৈনন্দিন প্রশাসন, যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা, পুনর্গঠন তদারকি এবং অঞ্চলে স্থিতাবস্থা ফিরিয়ে আনা। আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই এই বোর্ডের চেয়ারম্যান হবেন। তাঁর ২০ দফা ‘গাজা পিস প্ল্যান’কে অনুমোদন দিয়েছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদও রেজোলিউশন ২৮০৩ (২০২৫) এর ভিত্তিতেই বোর্ড গঠনের পথ খুলেছে।
এই বোর্ডে সদস্যপদ দু’ধরনের, স্থায়ী এবং তিন বছরের মেয়াদি। স্থায়ী সদস্য হতে হলে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থসাহায্য দিতে হবে। আর তিন বছরের মেয়াদি সদস্যপদে কোনও আর্থিক দায়বদ্ধতা নেই। তবে গাজা পুনর্গঠন ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারবে সদস্যরা।
এ ছাড়াও তৈরি হয়েছে আলাদা একটি ‘গাজা এক্সিকিউটিভ বোর্ড’। এতে রয়েছেন জ্যারেড কুশনার, স্টিভ উইটকফ, টনি ব্লেয়ার, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এবং কাতারের প্রতিনিধি আলি আল-থাওয়াদি। এই বোর্ড মাঠ পর্যায়ের কাজ, অর্থ ব্যবস্থাপনা এবং কার্যকরী সমন্বয় করবে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে পাঠানো আমন্ত্রণপত্র আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতের বাড়তে থাকা প্রভাবকেই তুলে ধরেছে। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত সমাধানে ভারতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এমনটাই মনে করছে কূটনৈতিক মহল। গাজা-ইসরায়েল পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারতের অবস্থানকে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী ভূমিকায় দেখা যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই বোর্ড ভবিষ্যতে গাজার বাইরেও আরও আন্তর্জাতিক সংঘাত সমাধানে ভূমিকা নিতে পারে। তবে বোর্ডের কাঠামো, কাজের ধরণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে এখনও চূড়ান্ত ঘোষণা হয়নি। আমেরিকার এই প্রস্তাব বিশ্বরাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।