
USA Reduce Tax On India: ভারত-মার্কিন বাণিজ্যিক সম্পর্কে নতুন মোড়। ভারতের জন্য শুল্ক বা ট্যারিফ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প নিজেই জানান, সোমবার সকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁর ফোনালাপ হয়েছে এবং সেই আলোচনার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্প লেখেন, প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে কথা বলা তাঁর কাছে সম্মানের বিষয়। তিনি মোদিকে তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের অন্যতম বলে উল্লেখ করেন এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে একজন শক্তিশালী ও সম্মানিত নেতা হিসেবে বর্ণনা করেন। ওই ফোনালাপে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের পাশাপাশি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মতো আন্তর্জাতিক ইস্যুতেও আলোচনা হয়েছে বলে জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ফোনালাপের পর ট্রাম্প দাবি করেন, ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করেছে এবং ভবিষ্যতে আমেরিকা ও সম্ভাব্যভাবে ভেনেজুয়েলা থেকে বেশি পরিমাণে তেল আমদানিতে সম্মত হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্ত ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করার ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে, যেখানে প্রতি সপ্তাহে হাজার হাজার মানুষের প্রাণ যাচ্ছে।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ঘোষণা আসে শুল্ক সংক্রান্ত বিষয়ে। ট্রাম্প জানান, প্রধানমন্ত্রী মোদির অনুরোধে এবং তাঁর প্রতি বন্ধুত্ব ও সম্মানের কারণে, তাৎক্ষণিকভাবে আমেরিকা–ভারত বাণিজ্য চুক্তিতে সম্মতি হয়েছে। এর ফলে ভারতের ক্ষেত্রে পারস্পরিক ট্যারিফ ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হচ্ছে। একইসঙ্গে ভারতও আমেরিকার বিরুদ্ধে আরোপিত শুল্ক ও অশুল্ক বাধা শূন্যের দিকে নামানোর প্রক্রিয়া শুরু করবে বলে দাবি করা হয়েছে।
এছাড়াও ট্রাম্প জানান, ভারত ৫০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের মার্কিন জ্বালানি, প্রযুক্তি, কৃষিপণ্য, কয়লা এবং অন্যান্য সামগ্রী কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পাশাপাশি ‘আমেরিকান পণ্য কিনুন’ নীতির প্রতিও ভারতের প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করেন তিনি।
পোস্টের শেষে ট্রাম্প লেখেন, ভারতের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি ও তিনি দু’জনেই কাজ করে দেখাতে বিশ্বাসী, যা সকলের ক্ষেত্রে বলা যায় না। তবে মার্কিন প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, এই খবর প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশ করা হয়েছে এবং আগামী দিনে আরও বিস্তারিত আপডেট সামনে আসতে পারে।