
নয়ডায় তরুণ সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার যুবরাজ মেহতার মর্মান্তিক মৃত্যু ঘিরে প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। দুর্ঘটনার পর উত্তরপ্রদেশ সরকার কিছু প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিলেও, সেই ব্যবস্থা যথেষ্ট কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আম আদমি পার্টির নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ।
গত ১৬-১৭ জানুয়ারি রাতে গুরুগ্রাম থেকে বাড়ি ফেরার সময় নয়ডার সেক্টর ১৫০-এ একটি নির্মাণস্থলের গভীর, জলভরা গর্তে পড়ে যান ২৭ বছরের যুবরাজ। ঘন কুয়াশা ও কম দৃশ্যমানতার মধ্যেই তাঁর গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ওই গর্তে পড়ে যায়। অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও দীর্ঘ সময় ধরে কার্যকর উদ্ধার অভিযান চালানো হয়নি। প্রায় দেড় থেকে দু'ঘণ্টা গাড়ির ছাদে আটকে থেকেও শেষ পর্যন্ত প্রাণ হারান যুবরাজ।
এই ঘটনায় উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ দ্রুত পদক্ষেপ নেন। নয়ডা কর্তৃপক্ষের সিইও লোকেশ এম-কে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং তিন সদস্যের একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে। এক জন জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ারকে বরখাস্ত করা হয়েছে, পাশাপাশি ট্রাফিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন আধিকারিককে শো-কজ নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
তবে এতেই সন্তুষ্ট নয় আম আদমি পার্টি। দলের দিল্লি ইউনিটের সভাপতি সৌরভ ভরদ্বাজ সোশ্যাল মিডিয়ায় কড়া ভাষায় সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করেন। তাঁর বক্তব্য, কয়েক বছর অন্তর কোনও আইএএস অফিসারকে বদলি করাকে কঠোর ব্যবস্থা বলা যায় না। তিনি সরাসরি নয়ডার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মেধা রূপমের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং দাবি করেন, উদ্ধার অভিযান ও এসডিআরএফ তাঁর অধীনেই পরিচালিত হয়।
ভরদ্বাজ আরও বিতর্ক উসকে দেন এই মন্তব্য করে যে, নয়ডার ডিএম নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কন্যা হওয়ায় তাঁকে 'সুরক্ষা' দেওয়া হচ্ছে। তাঁর কথায়, 'এতে বোঝা যায় দুর্নীতিবাজ আইএএস অফিসারদের বিচার করা কতটা কঠিন। পুরো ব্যবস্থাটাই ত্রুটিপূর্ণ।'
পোস্টমর্টেম রিপোর্ট অনুযায়ী, যুবরাজের মৃত্যুর কারণ শ্বাসরোধ ও হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়া। এই দুর্ঘটনা শুধু একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়, বরং চলমান নির্মাণকাজ, নিরাপত্তার অভাব এবং জরুরি উদ্ধার ব্যবস্থার অকার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। নয়ডার এই ঘটনা প্রশাসনিক দায়িত্ব ও মানবিক তৎপরতার ঘাটতিকে সামনে এনে দিয়েছে বলেই মত রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলের।