
দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিকে আরও কঠোরভাবে কার্যকর করতে বড় পদক্ষেপ নিল উত্তরপ্রদেশ সরকার। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে মানব সম্পদ পোর্টালে নিজেদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের বিবরণ জমা না দেওয়ায় রাজ্যের ৬৮,০০০-এরও বেশি সরকারি কর্মচারীর জানুয়ারি মাসের বেতন আটকে দেওয়া হয়েছে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, ৩১ জানুয়ারির মধ্যে সম্পদের ঘোষণা বাধ্যতামূলক ছিল। কিন্তু বিপুল সংখ্যক কর্মচারী সেই নির্দেশ মানেননি। ফলে জানুয়ারি মাসের বেতন বন্ধ রাখা হয়েছে এবং যতদিন না সম্পদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য আপলোড করা হচ্ছে, ততদিন বেতন দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানানো হয়েছে। এমনকি নিয়ম মানা না হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যসচিব এস পি গোয়েলের কড়া নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও বহু কর্মচারী সময়সীমা মানতে ব্যর্থ হন। এর জেরে ফেব্রুয়ারি মাসেও তাঁদের বেতন মিলবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সরকার প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পদের বিবরণ জমা দেননি-
৩৪,৯২৬ জন গ্রুপ সি কর্মী,
২২,৬২৪ জন গ্রুপ ডি কর্মী,
৭,২০৪ জন গ্রুপ বি আধিকারিক,
এবং ২,৬২৮ জন গ্রুপ এ অফিসার।
এই অনিয়ম সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে গণপূর্ত, রাজস্ব, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সমাজকল্যাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলিতে, যা পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও স্পষ্ট করে তুলছে।
যোগী আদিত্যনাথের নেতৃত্বাধীন সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, মানব সম্পদ পোর্টালে সম্পদের ঘোষণা জমা দেওয়া নিয়ে কোনও রকম ছাড় দেওয়া হবে না। নিয়ম না মানা পর্যন্ত বেতন বন্ধ থাকবে, এমন কঠোর অবস্থান নিয়েই প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতার বার্তা দিতে চাইছে রাজ্য সরকার।