
Bonedi Barir Pujo 2023, Sanjher Atchala: বাঙালীর উৎসব, সংস্কৃতি, ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দুর্গাপুজো। এখন দুর্গাপুজো মানেই বারোয়ারি পুজো। ওলিতে গলিতে এখন শুধুই থিমের লড়াই। বর্তমানে থিম ও বিজ্ঞাপনের ভিড়ে হারিয়ে না গিয়ে এখনও কিছু বনেদি বাড়ির পুজো টিকে আছে শতাব্দী পেরিয়ে। এবার তেমনই একটি শতাব্দী প্রাচীণ বনেদি বাড়ির পুজোর সন্ধান রইল এই প্রতিবেদনে...
হাওড়ার শিবপুরের রায়চৌধুরী পরিবারের দুর্গাপুজো শুরু হয় ১৬৮৫ সালে। পুজো শুরু করেন রাজা রামব্রহ্ম রায়চৌধুরী। স্বপ্নে মায়ের আদেশ পেয়ে রামব্রহ্ম বাড়িতে এই পুজো শুরু করেন। এ পুজো আসলে মা চন্ডীর পুজো। বর্তমানে এলাকায় বারোয়ারি পুজোর রমরমা হলেও তিনশো বছর পেরিয়ে এসেও শিবপুরের রায়চৌধুরী বাড়ির পুজো এখনও সমান জনপ্রিয়। পুজোর সেই রাজকীয় জৌলুস হয়তো আর আগের মতো নেই, তবে নিয়ম, নিষ্ঠা এবং আড়ম্বর যথাসম্ভব বজায় রেখে চলেছেন ‘শ্রী শ্রী দূর্গা-কালীমাতা এসেস্ট’- শিবপুরের রায়চৌধুরী পরিবার।
রায়চৌধুরী পরিবারের এই পুজো ‘সাঁজের আটচালা’ নামেই এলাকায় পরিচিত। ঐতিহ্যের তিনচালা ডাকের সাজের মায়ের মূর্তি এই পুজোর বৈশিষ্ট্য। সাঁজের আটচালায় মায়ের বোধন হয় মহালয়ার আগের নবমী তে। সদিন থেকেই ‘সাঁজের আটচালা’-র পুজোর সূচনা। পুজো হয় বৃহন্নন্দীকেশ্বর মতে। বেলুড় মঠে যে রীতিতে পুজো হয় সেই রীতিই অনুসরন করা হয় এখানে। দো-মেটে প্রতিমা সম্পন্ন হওয়ার পরে অঞ্চলের বহু ব্রাহ্মণ আমন্ত্রিত হন এই বাড়িতে। মায়ের মূর্তি দর্শন করে তাতে কোনও ত্রুটি আছে কি না তা তাঁরা দেখেন। নিখুঁত মূর্তির ছাড়পত্র পাওয়ার পরেই শুরু হয় চূড়ান্ত পর্বের মূর্তি গড়ার কাজ। এ বাড়িতে পুজোর জন্মলগ্ন থেকেই এ প্রথা চলে আসছে।
রায়চৌধুরী বাড়ির পুজোয় মায়ের মূর্তির সামনে কোনও ঘট বাঁধা হয় না। ঘট বাঁধা হয় আটচালা সংলগ্ন একটি বেলগাছে। এই বেলগাছের জন্য একটি আলাদা ঘরও আছে। এই বেল-ঘরের ছাঁদ ফুড়ে গাছটি উঠে গিয়েছে। পরিবারের বিশ্বাস, এই বেলগাছ দিয়েই মর্তে মা’র আগমন হয়। পুজোতে এখনও বলি প্রথা চালু আছে। সপ্তমীর দিন একটি এবং অষ্টমী ও নবমীর দিন দুটি করে পাঁঠা বলি হয়।
নবমীর দিন হোম সম্পন্ন হলে, হাঁড়িকাঠ উঠিয়ে বাড়িতে পংক্তিভোজনের আয়োজন করা হয়। এ ছাড়াও নানারকম মিষ্টান্ন, ঘরে তৈরী নারকেল নাড়ু, বিভিন্ন রকম ফলতো থাকেই। পুজোর দায়িত্বে থাকেন অরুণ রায়চৌধুরী। তার মতে, আগের মতো আড়ম্বর না থাকলেও এখনও যথেষ্ট নিষ্ঠার সঙ্গে পুজো চালিয়ে যাচ্ছে রায়চৌধুরী পরিবার। শুধু পরিবারের সদস্যরাই নয়, অঞ্চলের বহু মানুষ ‘সাঁজের আটচালা’য় ভিড় জমান শতাব্দী প্রাচীণ এই পুজো দেখতে।
দশমীতে পুজোর শেষে পুজোর ঘট বা মায়ের মুকুট— কোনটিরই বিসর্জন হয় না। মায়ের মুকুট আর জলভরা ঘট চলে যায় অনতিদূরের পারিবারিক মন্দির ব্যাতাই চন্ডীর মন্দিরে।