
কথায় আছে, জন্ম, মৃত্যু, বিবাহ— এই তিনটি বিষয়ে মানুষের কোনও নিয়ন্ত্রণ থাকে না। এ সবই পূর্ব নির্ধারিত। তাহলে মানুষের প্রেম, ভালবাসা, বন্ধুত্বের মতো সব সম্পর্কই কি পূর্ব নির্ধারিত? তাহলে যাঁর সঙ্গে ঘটনাচক্রে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, তাঁর সঙ্গেই বিয়ে হবে কি? জ্যোতিষশাস্ত্রে এই সমস্ত প্রশ্নের নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা রয়েছে। জাতক-জাতিকার জন্মকুণ্ডলী অনুযায়ী জেনে নেওয়া যেতে পারে এ বিষয়ে ঠিক কী বলছে জ্যোতিষশাস্ত্র...
১) শুক্র ও বৃহস্পতির সম্বন্ধিত যোগ জাতক-জাতিকার আধ্যাত্মিক প্রেম যোগ তৈরি করে।
২) যদি চন্দ্রের লগ্ন ভাবের সঙ্গে যুক্ত থাকে অথবা লগ্নপতির সপ্তম ভাব অথবা সপ্তম ভাবের স্থিত গ্রহের সঙ্গে সম্বন্ধ হয়, তাহলে প্রেম-বিবাহের যোগ তৈরি হয়।
৩) যখন শুক্র, শনি অথবা রাহুর দৃষ্ট থাকে বা শুক্র, শনি বা রাহুর সঙ্গে যুক্ত থাকে, তখন প্রেম বিবাহের যোগ তৈরি হয়।
৪) পঞ্চম-ভাব ও সপ্তম-ভাবের অধিপতিদের পরিবর্তন যোগ, পঞ্চম-পতি ও সপ্তম-পতির যুক্তি তথা পঞ্চম-পতি আর সপ্তম-পতির মধ্যে দৃষ্টির সম্বন্ধ থাকলে প্রেম-বিবাহের যোগ তৈরি হয়।
৫) পঞ্চম-ভাবে শুক্র আর চন্দ্রের যোগ, পঞ্চম-পতির শুক্র আর চন্দ্রের সঙ্গে সম্পর্কে প্রেম-বিবাহের যোগ তৈরি করে।
৬) শুক্র আর চন্দ্রের যোগে জাতক-জাতিকার মধ্যে প্রেমের মধ্যে রসিকতা, আকর্ষণ, একাত্মতা তৈরি হয়। এই যোগে অনেকের বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক তৈরি হতে দেখা যায়।
৭) মঙ্গল যদি পঞ্চম-ভাব বা তার অধিপতির সঙ্গে যুক্ত হয়, তাহলে প্রেম-বিবাহ যোগ তৈরি হয়।
৮) পঞ্চম-ভাবের অধিপতির সপ্তম-ভাবের সঙ্গে অথবা সপ্তম-ভাবে স্থিত গ্রহের সঙ্গে সম্বন্ধ থাকে তাহলে জাতক-জাতিকার প্রেম-বিবাহের যোগ তৈরি হয়।
৯) জন্মকুণ্ডলীতে পঞ্চম-ভাব, সপ্তম-ভাব তথা একাদশ-ভাবের অধিপতিদের মধ্যে পরস্পর সম্পর্ক যুক্ত হলে প্রেম-বিবাহের যোগ তৈরি করে।
১০) জন্মকুণ্ডলীতে মঙ্গল যদি সপ্তম ভাবে থাকে, সে ক্ষেত্রে জাতক-জাতিকার প্রেম-বিবাহের যোগ তৈরি হয়।