
মকর সংক্রান্তিতে স্নান, ধ্যান ও দান করাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়। এই দিনে তিলের বীজ বিশেষভাবে ব্যবহার করা হয়। যারা এদিন সংক্রান্তির স্নানের জন্য নদীর তীরে যেতে পারেন না, তাঁদের পবিত্র স্নানের সুফল পেতে তিল মেশানো জলে স্নান করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এছাড়াও শীতকালে, তিল শুধুমাত্র খাবার নয়। বরং একটি ঔষধি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
তিল মেশানো জল দিয়ে স্নান করা, তিলের তেল দিয়ে শরীর মালিশ করা, যজ্ঞে তিল উৎসর্গ করা, তিল মেশানো জল খাওয়া, খাবারে তিল ব্যবহার করাকে অত্যন্ত পবিত্র বলে মনে করা হয়। ফলে মকর সংক্রান্তির দিন তিলের গুরুত্ব বহুলাংশে বৃদ্ধি পায়।
তিলের উৎপত্তির কাহিনী
শাস্ত্রমতে, যখন হিরণ্যকশিপু তার নিজের ছেলে প্রহ্লাদের উপর টানা অত্যাচার করছিল। তখন ভগবান বিষ্ণু অত্যন্ত রেগে যান। তাঁর পুরো শরীর ঘামে ভিজে যায়। এই ঘাম মাটিতে পড়লেই তিলের উৎপত্তি হয়। তিলের বীজ গঙ্গার জলের মতো পবিত্র বলে বিবেচিত হয়। বিশ্বাস করা হয়, গঙ্গার জলের স্পর্শ যেমন প্রয়াত আত্মাদের বৈকুণ্ঠের দ্বারে নিয়ে যায়। তেমনি তিলও পূর্বপুরুষ, ভূ-লোকে বিচরণকারী আত্মাদের মুক্তির পথ দেখায়। তাই, ধর্মীয়ভাবে তিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিহারের মিথিলা এলাকায় তিল সম্পর্কে এক বিশেষ বিশ্বাস প্রচলিত রয়েছে। এই এলাকায় গঙ্গায় বা নদীতে স্নানের পর, প্রিয়জনদের তিল দেওয়ার রীতি প্রচলিত রয়েছে। তিল দিয়ে বলা হয়, তিল তিল বাহবে। এই প্রবাদটির বেশ কয়েকটি অর্থ রয়েছে। প্রথম অর্থ হল ধীরে ধীরে এগিয়ে চলো। অর্থাৎ ধীরে ধীরে এগিয়ে চললেই অগ্রগতির মূল্য বোঝা যায়। আর তিল তিল বাহবে-র অপর অর্থ হল যদি কোনও দুঃখ থাকে তবে তা ধীরে ধীরে অদৃশ্য হয়ে যাবে।
রীতি অনুযায়ী স্নানের পর মায়েরা তাঁদের ছেলেদের তিল দেন এবং বলেন 'তিল তিল বাহবে।' এই তিলগুলি চাল এবং গুড়ের সঙ্গেও মেশানো হয়। তিল পিতা এবং পূর্বপুরুষদের প্রতীক, চাল মাতার প্রতীক এবং গুড় প্রেম এবং সম্প্রীতির প্রতীক। এই তিলগুলি হাতে নিয়ে, ছেলেরা তাঁদের পিতামাতার সেবা করার, পরিবারের মর্যাদা রাখার এবং তাঁদের পূর্বপুরুষদের কর্তব্য পালন করার প্রতিশ্রুতি দেয়।
মায়েরা তাঁদের ছেলেদের হাতে পাঁচবার তিল দেন এবং জিজ্ঞাসা করেন যে তারা কি তাদের সাথে তিল প্রবাহিত করবেন, এর উত্তরে ছেলেরা বলে হ্যাঁ। এর অর্থ হল মায়েরা ছেলেদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি চান যে, বৃদ্ধ বয়সে তাঁদের ভরণপোষণ করা হবে তো? ছেলেরা তাঁদের মায়েদের প্রতিশ্রুতি দেয়, তাঁরা সারা জীবন বাবা-মায়ের সেবা করবে।