
হিন্দু পঞ্জিকা অনুসারে চৈত্র মাসকে অত্যন্ত স্পেশাল বলে মনে করা হয়। এই সময়টি নতুন সূচনা, ভক্তি এবং ইতিবাচক শক্তির প্রতীক। নবরাত্রি, রাম নবমী এবং হনুমান জয়ন্তীর মতো গুরুত্বপূর্ণ উৎসবগুলি এই মাসেই পালিত হয়। হনুমান জয়ন্তী হল ভগবান বজরংবলীর উদ্দেশ্যে উৎসর্গীকৃত একটি বিশেষ দিন। চলতি বছরে হনুমান জয়ন্তী পড়েছে ২ এপ্রিল। এই দিনে, ভক্তরা মন্দিরে যান এবং তাঁদের জীবনের সমস্যাগুলি দূর করার জন্য বজরংবলীর কাছে প্রার্থনা করেন।
হনুমান জয়ন্তীর তাৎপর্য
বিশ্বাস করা হয় এই দিনে ভগবান হনুমানের শিশু রূপের পুজো করলে দুঃখ-কষ্ট দূর হয়। হনুমানকে কলিযুগের সবচেয়ে জাগ্রত দেবতা হিসেবে মনে করা হয়। ভক্তরা বিশ্বাস করেন তিনি সব কঠিন পরিস্থিতিতে আর্তকে সাহায্য করেন। বলা হয় যে হনুমান জয়ন্তীতে বাড়িতে কয়েকটি শুভ জিনিসপত্র আনলে ইতিবাচক শক্তি এবং সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পায়।
কী কী জিনিস বাড়িতে আনা যেতে পারে
১) সিঁদুর
হনুমানজী সিঁদুর অত্যন্ত পছন্দ করেন বলে মনে করা হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, সিঁদুর তাঁর প্রতি ভালোবাসা, ভক্তি এবং নিষ্ঠার প্রতীক। বলা হয় যে ভক্তরা আন্তরিক হৃদয়ে বজরংবলীকে সিঁদুর অর্পণ করেন, তাঁরা হনুমানের বিশেষ কৃপা লাভ করেন।
হনুমান জয়ন্তীর রীতি অনুযায়ী বাড়িতে সিঁদুর এনে ভগবান হনুমানকে অর্পণ করা অত্যন্ত শুভ। এটি শুধু পুজোর একটি অংশ নয়, বরং সৌভাগ্য এবং পজিটিভ শক্তিকে আমন্ত্রণ জানায়।
২) হনুমানজীর ছবি বা মূর্তি
ভগবান হনুমানকে শক্তি, প্রজ্ঞা এবং ভক্তির প্রতীক। এই রূপটি সাহস, আনুগত্য এবং সেবার মনোভাবের প্রতিনিধিত্ব করে। বাড়িতে বজরংবলীর হনুমান রূপের ছবি বা মূর্তি রাখা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। বিশ্বাস করা হয় এটি বাড়ি থেকে নেতিবাচক শক্তি দূর করে।
৩) হনুমানের গদা
গদা ভগবান হনুমানের শক্তি, সাহস এবং সুরক্ষার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। এটি তখন শুধু একটি অস্ত্রই নয়, বরং অশুভ শক্তির উপর শুভ শক্তির বিজয়েরও প্রতীক। বিশ্বাস করা হয় যে, হনুমান যেমন তাঁর গদা দিয়ে অশুভ শক্তিকে বিনাশ করেন, তেমনি ঘরে গদা রাখলে তা সুরক্ষা এবং ইতিবাচক শক্তি বৃদ্ধি করে। হনুমান জয়ন্তীতে গদা ঘরে এনে যথাযথ আচার-অনুষ্ঠানের সঙ্গে এর পূজা করা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। পূজার পর গদাকে বাড়ির পূর্ব দিকে রাখা উচিত। কারণ পূর্ব দিককে শক্তি এবং শুভত্বের উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
৪) ছোট তামার কুঠার
বাড়িতে বাস্তু দোষ বা গ্রহ সংক্রান্ত সমস্যা থাকলে, হনুমান জয়ন্তীতে একটি ছোট তামার কুঠার আনা শুভ বলে মনে করা হয়। এটি কেবল একটি বস্তু নয়, বরং এটি নেতিবাচক শক্তি দূর করে। বাড়িতে ভারসাম্য বজায় রাখার প্রতীক হিসেবে কাজ করে। বাড়ির একটি পরিষ্কার ও পবিত্র স্থানে রাখা এই কুঠার রাখা উচিত।