Advertisement

Home Temple Vastu: ঠাকুরঘরের এসব নিয়ম ভাগ্য পাল্টাতে পারে, সাত জন্মেও অভাব হবে না

Vastu Tips: যে বাড়িতে ঠাকুরঘরের সব নিয়ম ভক্তির সঙ্গে পালন করা হয়, সেখানে লক্ষ্মী বাস করেন এবং সাত জন্ম ধরে ধন-সম্পদ ও সমৃদ্ধির অভাব হয় না।

বাড়ির ঠাকুরঘরের ছবি (সৌজন্যে: এআই)বাড়ির ঠাকুরঘরের ছবি (সৌজন্যে: এআই)
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 29 Aug 2025,
  • अपडेटेड 6:08 PM IST

বাড়ির ঠাকুরঘর অত্যন্ত পবিত্র এবং শক্তিশালী বলে মনে করা হয়। যে বাড়িতে ঠাকুরঘরের সব নিয়ম ভক্তির সঙ্গে পালন করা হয়, সেখানে লক্ষ্মী বাস করেন এবং সাত জন্ম ধরে ধন-সম্পদ ও সমৃদ্ধির অভাব হয় না। তবে যদি নিয়ম উপেক্ষা করা হয়, তাহলে ঘরে নেতিবাচক শক্তি এবং বাধা-বিপত্তি বাড়তে থাকে। এই কারণেই ঠাকুরঘরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, নিয়ম এবং আচরণের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। জেনে নিন কী কী নিয়ম মেনে চললে দেবী লক্ষ্মীর আশীর্বাদ সর্বদা থাকে।

প্রতি শনিবার ঠাকুরঘর পরিষ্কার করুন

শনিবার বিশেষভাবে শনিদেবকে উৎসর্গ করা হয়। বিশ্বাস করা হয় যে এই দিনে করা সৎকর্ম এবং ধর্মীয় কার্যকলাপ বহুগুণ বেশি ফল দেয়। সেই কারণেই শনিবার ঠাকুরঘর পরিষ্কার করলে ঘরে সুখ-সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পায়, মানসিক শান্তি আসে এবং পরিবারে ইতিবাচক পরিবেশ বজায় থাকে। যদি আপনি আপনার বাড়িতে শান্তি ও সমৃদ্ধি চান, তাহলে প্রতি শনিবার ঠাকুরঘর পরিষ্কার করার নিয়ম করুন।

আরও পড়ুন

গঙ্গাজল

গঙ্গাজলকে পরম পবিত্রতার প্রতীক হিসাবে বিবেচনা করা হয়। বিশ্বাস করা হয় যে গঙ্গাজলের সমস্ত পাপ দূর করার এবং পরিবেশকে পবিত্র করার ক্ষমতা রয়েছে। তাই ঠাকুরঘর পরিষ্কার করার পর গঙ্গাজল ছিটিয়ে দেওয়া অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। ঠাকুরঘর পরিষ্কার করার পর গঙ্গাজল ছিটিয়ে দিলে সেই স্থানের সমস্ত নেতিবাচক শক্তি দূর হয়ে যায়, সেখানে ইতিবাচক শক্তির প্রবাহ বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। এটি শুধু পরিবেশকেই পবিত্র করে না, সেই সঙ্গে মন ও আত্মায় শান্তিও প্রদান করে। শাস্ত্রে বলা হয়েছে যে গঙ্গাজল ছিটিয়ে দিলে ঘরে দেবত্ব আসে। এটি ঈশ্বরকে খুশি করার একটি সহজ উপায়। ঘরে সুখ, শান্তি এবং সৌভাগ্য নিয়ে আসে গঙ্গাজল। তাই, পরিষ্কার করার পর সব সময় গঙ্গাজল ছিটিয়ে দিতে হবে যাতে ঠাকুরঘর সর্বদা পবিত্র থাকে।

প্রদীপ পরিষ্কার করা

Advertisement

ভারতীয় সংস্কৃতিতে, প্রদীপকে জ্ঞান, আশা এবং ইতিবাচকতার প্রতীক হিসাবে বিবেচনা করা হয়। আমরা যখনই মন্দির বা ঠাকুরঘরে প্রদীপ জ্বালাই, এটি কেবল অন্ধকার দূর করে না বরং আমাদের জীবন থেকে নেতিবাচক শক্তিও দূর করে। কিন্তু এই দেবত্বের অভিজ্ঞতা তখনই সম্পূর্ণ হয় যখন প্রদীপ পবিত্র এবং পরিষ্কার থাকে। যদি প্রদীপটি নোংরা হয় অথবা এতে পুরনো তেল এবং কালি জমে থাকে, তাহলে এর আলো দুর্বল হয়ে যায় এবং এর প্রভাবও কম হয়। তাই, শাস্ত্রে বলা হয়েছে যে প্রতিদিন প্রদীপ পরিষ্কার করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

একাদশী বা বৃহস্পতিবার পরিষ্কার করবেন না

হিন্দু ধর্মে, একাদশী এবং বৃহস্পতিবার উভয়েরই বিশেষ আধ্যাত্মিক তাৎপর্য রয়েছে। ভগবান বিষ্ণুর উপাসনার জন্য একাদশীকে সর্বোত্তম দিন হিসাবে বিবেচনা করা হয়। এই দিনে উপবাস, ভজন এবং পুজো করলে প্রচুর পুণ্য লাভ হয়। বৃহস্পতিবার দেবগুরু বৃহস্পতির উদ্দেশ্যে উৎসর্গীকৃত এবং এই দিনটিকে জ্ঞান, ধর্ম এবং সমৃদ্ধির প্রতীক হিসাবে বিবেচনা করা হয়। এই কারণে, এই দিনগুলিতে ঠাকুরঘর পরিষ্কার করা উচিত নয়। বিশ্বাস করা হয় যে, এটি ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে উপযুক্ত নয়।

ভুলেও মাটিতে ছবি রাখবেন না

ঠাকুরঘর রাখা দেব-দেবীর ছবি এবং মূর্তি কেবল ছবি বা মূর্তি নয়, বরং এগুলি ভক্তি, বিশ্বাস এবং শ্রদ্ধার প্রতীক হিসাবে বিবেচিত হয়। এই ছবিগুলির মাধ্যমে আমরা ঈশ্বরের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করি এবং তাদের কাছ থেকে শক্তি এবং আশীর্বাদ পাই। সেজন্যই সর্বদা সম্মানের সঙ্গে এগুলো পরিচালনা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সময়, তাড়াহুড়ো করে ছবি বা মূর্তি সরাসরি মাটিতে রাখেন অনেকে। কিন্তু শাস্ত্রে এই কাজ করাকে অসম্মানজনক বলে মনে করা হয়। এটি দেবতাদের প্রতি অসম্মান দেখায় এবং নেতিবাচক ফলাফল দিতে পারে। মন্দির বা ঠাকুরঘর পরিষ্কার করার সময়, কখনও দেবতাদের ছবি বা মূর্তি মাটিতে রাখবেন না। সর্বদা পরিষ্কার কাপড়, টেবিল বা পবিত্র স্থানে কিছু সময়ের জন্য রাখুন।

মন্দিরে পর্দা লাগাতে ভুলবেন না

শাস্ত্রে মন্দির বা ঠাকুরঘরকে সবচেয়ে পবিত্র স্থান হিসাবে বিবেচনা করা হয়। আমরা যেমন কোনও প্রিয় বস্তু বা সম্মানিত ব্যক্তিকে রক্ষা করি, ঠিক তেমনই ঈশ্বরের স্থানের মর্যাদা বজায় রাখার জন্য বিশেষ নিয়ম নির্ধারণ করা হয়েছে। তার মধ্যে একটি হল পূজা শেষ হওয়ার পরে মন্দিরে পর্দা লাগানো। পর্দা লাগানোর মাধ্যমে মন্দিরের পবিত্রতা এবং গোপনীয়তা বজায় থাকে। এটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং শ্রদ্ধা এবং শৃঙ্খলার প্রতীক।

ঠাকুরঘরে কর্পূর জ্বালানো 

কর্পূর পুজোর একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এর সুবাস এবং ধোঁয়া কেবল পরিবেশকে সুগন্ধযুক্ত করে না বরং এটিকে পবিত্রও করে। শাস্ত্রে বলা হয়েছে যে, কর্পূর জ্বালালে নেতিবাচক শক্তি দূর হয় এবং ঘরে ইতিবাচকতা ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্বাস করা হয় যে, কর্পূরে এমন ঐশ্বরিক শক্তি রয়েছে যে এটি সকল ধরণের বাস্তু দোষ এবং পিতৃ দোষকে শান্ত করতে সাহায্য করে। যখন কর্পূর প্রতিদিন সন্ধ্যায় প্রদীপ দিয়ে জ্বালানো হয়, তখন এর ধোঁয়া পরিবেশকে পবিত্র করে এবং ঘরের প্রতিটি কোণে শান্তি ও প্রশান্তি এনে দেয়।


 

Read more!
Advertisement
Advertisement