
হিন্দু ধর্মের সর্বোচ্চ দেবতা মনে করা হয় শিবকে। সনাতন ধর্মের শাস্ত্রসমূহে তিনি পরমসত্ত্বা রূপে ঘোষিত। তার বিশেষ রুদ্ররূপ ধ্বংস, সংহার ও প্রলয়ের দেবতা। সর্বোচ্চ স্তরে শিবকে অপরিবর্তনশীল পরম ব্রহ্ম মনে করা হয়।
শিবলিঙ্গকে ভগবান শিবের নিরাকার রূপ বলে মনে করা হয়। শিবলিঙ্গকেই প্রকৃত শিব বলা হয়। প্রতি সোমবার শিবলিঙ্গের পুজোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। তবে শিবলিঙ্গের পুজো এবং বাড়িতে বা মন্দিরে স্থাপন করারও কিছু নিয়ম রয়েছে। জ্যোতিষীরা বলেন, বাড়িতে বা মন্দিরে শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করার সময় বিশেষ কিছু বিষয়ের যত্ন নেওয়া প্রয়োজন।
শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠার নিয়ম কী?
মহাদেবের পুজোয় শিবলিঙ্গ পুজোকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।
* শাস্ত্র মতে শিবলিঙ্গ ঘরে আলাদা এবং মন্দিরে আলাদাভাবে স্থাপন করতে হবে।
* শিবলিঙ্গের বেদীর মুখ ঘরে আলাদা এবং মন্দিরে আলাদাভাবে স্থাপন করতে হবে।
* শিবলিঙ্গের বেদীর মুখ উত্তর দিকে হওয়া উচিত।
* ঘরে স্থাপিত শিবলিঙ্গ খুব বড় হওয়া উচিত নয়। এটি সর্বোচ্চ ৬ ইঞ্চি হওয়া উচিত। যদিও মন্দিরের ক্ষেত্রে সেরকম কোনও ব্যাপার নেই।
শিবলিঙ্গে কী নিবেদন করবেন, কী করবেন না?
শিবের পুজোয় জল ও বেল পাতার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এই দুটি জিনিস দিয়েই শিবকে যথাযথভাবে পুজো করা যায়। এছাড়া কাঁচা দুধ, সুগন্ধি, আখের রস, চন্দন দিয়েও অভিষেক করা যায়। শিবলিঙ্গে কখনই শিমুল, জুঁই, কদম ও কেতকি ফুল অর্পণ করবেন না।
পুজোর নিয়ম কী?
শিবলিঙ্গে কঠিন পদার্থ উভয় হাত দিয়ে দিতে হবে। শিবলিঙ্গে কিছু নিবেদন করার পর শেষে গঙ্গাজল নিবেদন করুন। শিবলিঙ্গে তামসিক বস্তু নিবেদন করা উচিত নয়। শিবলিঙ্গে কোনও বস্তু নিবেদনের সময়, একটি বিশেষ মন্ত্র পাঠ করুন।