
জীবনে ঈশ্বরের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। এই কারণেই মানুষ বিশ্বাস ও ভক্তির সঙ্গে ঈশ্বরের উপাসনা করে, তীর্থযাত্রায় যায় এবং মন্দিরে যায়। তারা প্রার্থনা এবং স্তোত্রের মাধ্যমে ঈশ্বরকে স্মরণ করে। এটা বিশ্বাস করা হয়, যখন একজন ব্যক্তি তাঁর হৃয় দিয়ে উপাসনা করেন, তখন তাঁর মন শান্ত থাকে। মন শান্ত থাকলে জীবনে ভারসাম্য বজায় থাকে। তবে ভর্তি থেকে প্রত্যেক ব্যক্তি একই ফলাফল পাবে এমনটি অপরিহার্য নয়। কেউ কতটা পুণ্য লাভ করে তা তাঁর চিন্তাভাবনা, আচরণ এবং কর্মের উপর নির্ভর করে। প্রেমানন্দজি মহারাজ তাঁর বক্তৃতায় এই বিষয়ে আলোকপাত করেছেন।
প্রেমানন্দ মহারাজ ব্যাখ্যা করেছেন, কিছু হিন্গু মানুষ যতই পুজো করুক, তবুও তাঁরা কাঙ্খিত পুণ্য অর্জন করতে ব্যর্থ হয়। এর পিছনের কারণ হল তাঁদের ভুল আচরণ এবং অপবিত্র চিন্তাভাবনা।
কেন মানুষ পুজোর ফল পায় না?
প্রেমানন্দ মহারাজ বলেন, 'যে ব্যক্তি মন্দ কাজ করে, অন্যদের ক্ষতি করে অথবা নেতিবাচক চিন্তাভাবনা পোষণ করে, তার জন্য পুজো কোনও কাজে আসে না। যদি কেউ কেবল ভক্ত হওয়ার ভান করে কিন্ত তাঁর হৃদয় শুদ্ধ না থাকে, তাহলে মন্দিরে যাওয়াও বৃথা। এই ধরনের লোকেদের পুজো কেবল লোক দেখানো হয়ে যায়।'
'ঈশ্বর সবকিছু জানেন..'
প্রেমানন্দ মহারাজ ব্যাখ্যা করেন, ঈশ্বর প্রতিটি ব্যক্তির হৃদয়ে বাস করেন। তিনি বলেন, 'আমাদের সমস্ত কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করেন ঈশ্বর। আমরা অন্যদের কাছে নিজেকে মেলে ধরি, কিন্তু ঈশ্বরের কাছ থেকে কিছুই লুকনো যায় না। যদি কারও কর্মকাণ্ডে ভুল হয়, তাহলে কেবল প্রার্থনা কিছুই পরিবর্তন করতে পারবে না। যদি কারও হৃদয় পবিত্র হয় এবং তারা সৎকর্ম করে, তাহলে তারা প্রতিদিন মন্দিরে না গেলেও পুণ্য অর্জন করে।'
প্রকৃত ভক্তের পথ কোনটা?
প্রেমানন্দ মহারাজের বার্তা হল, ভক্তিতে লিপ্ত হওয়ার আগে, একজনকে অবশ্যই সৎ ভাবে কর্ম করতে হবে এবং নিজের চিন্তাভাবনা শুদ্ধ রাখতে হবে। হৃদয় থেকে ঈশ্বরের নাম স্মরণ করতে হবে। অন্যদের প্রতি করুণা এবং ভালোবাসা প্রদর্শন করতে হবে। এটি করার ফলে কেবল ঈশ্বরের আশীর্বাদই আসে না, বরং তীর্থস্থান এবং মন্দির পরিদর্শনের পরও পুণ্য স্বয়ংক্রিয় ভাবে লাভ করা যায়।'