
Saraswati Puja Rituals: জ্ঞান, বিদ্যাচর্চা, সঙ্গীত ও শিল্পকলার অধিষ্ঠাত্রী দেবী মা সরস্বতী। বিশ্বাস অনুযায়ী তাঁর কৃপায় মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধির বিকাশ ঘটে এবং কথা বলার ক্ষমতা উন্নত হয়। জীবনে উন্নতি ও কর্মক্ষেত্রে সাফল্যের সঙ্গে দেবী সরস্বতীর আশীর্বাদকে জুড়ে দেখেন বহু মানুষ।
চলতি বছর ২৩ জানুয়ারি শুক্রবার পালিত হচ্ছে সরস্বতী পুজো। বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুযায়ী পঞ্চমী তিথি শুরু হয়েছে ২২ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার রাত ২টা ৩০ মিনিটে এবং শেষ হচ্ছে ২৩ জানুয়ারি শুক্রবার রাত ১টা ৪৭ মিনিটে। বাংলা ক্যালেন্ডারে এই তিথি পড়েছে ৮ ও ৯ মাঘে।
অন্যদিকে গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা অনুযায়ী পঞ্চমী তিথি শুরু হয়েছে ২২ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার রাত ১টা ৩৭ মিনিট ৪০ সেকেন্ডে এবং শেষ হচ্ছে ২৩ জানুয়ারি শুক্রবার রাত ১২টা ২৭ মিনিট ২৮ সেকেন্ডে। দুই পঞ্জিকার সময় নির্ণয়ে সামান্য পার্থক্য থাকলেও পুজোর দিন অপরিবর্তিত। পুজো করার জন্য সবচেয়ে শুভ সময় ধরা হচ্ছে ২৩ জানুয়ারি সকাল ৭টা ১৫ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যেই বাগদেবীর আরাধনা, অঞ্জলি এবং বই-কলমের পুজো সম্পন্ন করাকে শ্রেয় বলে মনে করা হয়।
শাস্ত্র অনুসারে দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ে দেবী সরস্বতী মানুষের জিহ্বায় অবস্থান করেন বলে বিশ্বাস করা হয়। এই সময় উচ্চারিত কথাগুলি নাকি অবশ্যম্ভাবীভাবে সত্যি হয়। এই ধারণা বহু প্রাচীন ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে যুক্ত।
এই সময়কে ব্রাহ্ম মুহূর্ত বলা হয়। সাধারণভাবে রাত তিনটের পর থেকে সূর্যোদয়ের আগের সময়, অর্থাৎ আনুমানিক ভোর সাড়ে চারটে পর্যন্ত সময়কে ব্রাহ্ম মুহূর্ত হিসেবে ধরা হয়। শাস্ত্র মতে এই সময়েই দেবী সরস্বতীর অধিষ্ঠান ঘটে জিহ্বায়।
এই বিশ্বাস থেকেই প্রবীণদের মধ্যে একটি সতর্কবার্তা প্রচলিত, ভোরবেলায় কখনও কটু বা অশুভ কথা বলা উচিত নয়। কারণ সেই সময় বলা কথাই সত্যি হয়ে উঠতে পারে এবং তার প্রভাব নিজের জীবনেও পড়তে পারে বলে ধারণা।
দেবী সরস্বতীর জপ মন্ত্র হিসেবে প্রচলিত রয়েছে ‘ওম হ্রি ক্লীন মহাসরস্বতী দেব্যা নমহঃ’। ছাত্রছাত্রীদের নিয়মিত এই মন্ত্র জপ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে শাস্ত্র মতে শুধু পুজো নয়, ভালো আচরণ, সংযত বাক্য এবং অন্যের ক্ষতি না করাই দেবীর আশীর্বাদ লাভের প্রধান শর্ত।