
২০২৬ সালের প্রথম সূর্যগ্রহণ ইতিমধ্যেই হয়ে গিয়েছে। ১৭ ফেব্রুয়ারি ছিল এই বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ। এবার এই বছরের প্রথম চন্দ্রগ্রহণ কবে হবে, জেনে নেওয়া যাক। ২০২৬ সালের মার্চ মাসে ভারতে এক বিশেষ ভৌগোলিক ঘটনা দেখা যাবে। ৩ মার্চ ২০২৬-এ বছরের প্রথম চন্দ্রগ্রহণ হতে চলেছে। আর এই গ্রহণের সময় চাঁদের রং থাকবে লাল। এই লাল চাঁদকে অনেকেই ব্লাড মুন অথবা রক্তিম চাঁদ বলে থাকেন। দোলের দিনই চন্দ্রগ্রহণ হবে বলে জানা গিয়েছে।
চন্দ্রগ্রহণের জ্যোতিষ গুরুত্ব
জ্যোতিষ গণনা অনুসারে, এই চন্দ্রগ্রহণ পূর্ব ফাল্গুনি নক্ষত্রে ও সিংহ রাশিতে ঘটতে চলেছে। এই চন্দ্র গ্রহণ ভারত থেকে দেখা যাবে। তাই এর সূতক কালও মানা হবে।
চন্দ্রগ্রহণের সময়
এই গ্রহণ দুপুর ৩টে ২০ মিনিটে শুরু হবে এবং সন্ধে ৬টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত চলবে। ভারতে সন্ধের সময় এই চন্দ্র গ্রহণ সম্পূর্ণভাবে দেখা যাবে। এই সময় লাল রঙের চাঁদ খুবই সুন্দর হয়ে উঠবে। এই গ্রহণ ধার্মিক ও পঞ্চাঙ্গ অনুসারেও খুব মাহাত্ম্যপূর্ণ বলে মানা হবে।
পূর্ণিমা শুরু কখন থেকে
এই বছর মার্চ মাসে ফাল্গুন শুক্ল পক্ষের পূর্ণিমা দুদিন ধরে চলবে। ২ মার্চ, সোমবার বিকেল ৫টা ৫৫ মিনিটে পূর্ণিমা শুরু হবে এবং ৩ মার্চ, মঙ্গলবার সন্ধে ৫টা ৭ মিনিট পর্যন্ত থাকবে। তবে এই সময়কালে কোনও ধরনের শুভ কাজ করার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে।
কখন থেকে সূতক কাল শুরু
গ্রহণের ৯ ঘণ্টা আগে অর্থাৎ ৩ মার্চ ভোর ৬টা ২০ মিনিট থেকে সূতক কাল শুরু হয়ে যাবে। সূতক কাল শুরু হওয়ার পর গ্রহণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও ধরনের শুভ কাজ করা যাবে না। বৈজ্ঞানিকদের মতে, এই বছর মার্চে হওয়া চন্দ্র গ্রহণ ও ব্লাড মুড খুবই সুন্দর হবে। রাতের আকাশে এই রক্তিম বর্ণের চাঁদ সকলের নজর কাড়বে নিঃসন্দেহে।
২০২৬ সালে চারটি গ্রহণ
১৭ ফেব্রুয়ারি বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ হয়ে গিয়েছে। এটা পূর্ণ বলয় বা রিং অফ ফায়ার সূর্য গ্রহণ ছিল। এরপর দ্বিতীয় গ্রহণ হবে ৩ মার্চ, চন্দ্রগ্রহণ। ভারত থেকে যা সম্পূর্ণভাবে দেখা যাবে। ৫৮ মিনিট পর্যন্ত এই গ্রহণ চলবে। তৃতীয় গ্রহণ হবে ২৯ জুলাই, যা সূর্যগ্রহণ হবে। এটিও ভারত থেকে দেখা যাবে না। তাই এর সূতক কালও মানা হবে না। চতুর্থ ও শেষ চন্দ্রগ্রহণ হবে ২৮ অগাস্ট। এই গ্রহণ উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, ইউরোপ ও আফ্রিকার কিছু অংশ থেকে দেখা যাবে। ভারত থেকে শেষ গ্রহণ দেখা যাবে না বলে, এরও সূতক কাল মানা হবে না।
পূর্ণিমায় হবে এই চন্দ্রগ্রহণ
এই বছরের মার্চ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে চন্দ্রগ্রহণ বিশেষ কারণ এটি আমাদের জ্যোতির্বিদ্যা এবং ধর্মীয় ঐতিহ্য উভয়ের গুরুত্বের কথা মনে করিয়ে দেয়। সূতক সময়ে কোনও শুভ কাজ, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান বা নতুন উদ্যোগ না নেওয়াই উচিত। গ্রহণ শেষ হওয়ার পরেই যে কোনও কাজ শুরু করা শুভ বলে বিবেচিত হয়।