
ঘরে টাকা আসে। আবার অজান্তেই বেরিয়েও যায়। অনেক সময় আয় বাড়লেও সঞ্চয় বাড়ে না। সংসারে অভাব লেগেই থাকে। এই অবস্থার পিছনে শুধু রোজগার নয়, ঘরের পরিবেশও দায়ী; এমনটাই দাবি বাস্তুশাস্ত্রের। বাস্তুমতে, ঘরের কিছু ভুল জায়গায় রাখা জিনিস লক্ষ্মীর আগমন আটকে দিতে পারে। বিশেষ করে ঝাঁটা আর শৌচালয়ের অবস্থান নিয়ে রয়েছে কড়া নির্দেশ। বাস্তুশাস্ত্রে ঝাঁটা খুব সাধারণ জিনিস হলেও গুরুত্ব কম নয়। কারণ, ঝাঁটা সরাসরি জড়িত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সঙ্গে। আর পরিষ্কার ঘর মানেই লক্ষ্মীর বাস; এমনটাই বিশ্বাস। কিন্তু ঝাঁটা যদি ভুল দিকে রাখা হয়, তা হলে উল্টো ফল হতে পারে। বাস্তুমতে, কখনওই ঘরের উত্তর-পূর্ব দিকে ঝাঁটা রাখা উচিত নয়। এই দিককে ঈশান কোণ বলা হয়। এই কোণকে অত্যন্ত শুভ ধরা হয়। এখানে দেবতার শক্তি বিরাজ করে বলে মনে করা হয়। সেখানে ঝাঁটা রাখলে শুভ শক্তি নষ্ট হয়। তার প্রভাব পড়ে সংসারের আর্থিক অবস্থায়।
একই ভাবে, ঝাঁটা কখনও খোলা জায়গায় ফেলে রাখা উচিত নয়। দরজার সামনে ঝাঁটা রাখাও অশুভ বলে মনে করা হয়। এতে অর্থ বেরিয়ে যাওয়ার যোগ তৈরি হয়। কাজ শেষে ঝাঁটা ঢেকে রেখে দেওয়া ভাল। বিশেষ করে রাতের বেলা ঝাঁটা খোলা রাখলে লক্ষ্মী বিরক্ত হন; এমন বিশ্বাসও রয়েছে বাস্তুশাস্ত্রে।
শুধু ঝাঁটা নয়, শৌচালয়ের অবস্থানও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাস্তুমতে, ঘরের যে কোনও দিকেই শৌচালয় করলে চলবে না। বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব কোণে কখনও শৌচালয় থাকা উচিত নয়। এই দিককে জলের দিক বলা হয়। এই দিকেই পুজোর ঘর বা ঠাকুরদালান থাকা সবচেয়ে শুভ। সেখানে শৌচালয় থাকলে আর্থিক ক্ষতি, মানসিক অশান্তি এবং পারিবারিক সমস্যার সম্ভাবনা বাড়ে বলে দাবি বাস্তুশাস্ত্রের।
দক্ষিণ-পশ্চিম দিকেও শৌচালয় করা নিষেধ। এই দিক স্থিতিশীলতার প্রতীক। এখানে শৌচালয় থাকলে সংসারে অস্থিরতা আসে। টাকা জমে না। বারবার অপ্রয়োজনীয় খরচ বাড়তে থাকে। বাস্তুমতে, শৌচালয়ের জন্য তুলনামূলক ভাবে উত্তর-পশ্চিম বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক কিছুটা গ্রহণযোগ্য।
এখানেই শেষ নয়। শৌচালয় সব সময় পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত জরুরি। নোংরা শৌচালয় মানেই নেতিবাচক শক্তির বাস। তার প্রভাব পড়ে ঘরের সমস্ত সদস্যের উপর। বিশেষ করে আর্থিক ক্ষেত্রে সমস্যা বাড়ে। শৌচালয়ের দরজা সব সময় বন্ধ রাখা উচিত। ঢাকনা খোলা রাখা নিষেধ। কারণ, তা হলে ইতিবাচক শক্তি নষ্ট হয়; এমনটাই বিশ্বাস।
বাসুশাস্ত্র বলছে, লক্ষ্মী শুধু টাকার দেবী নন। তিনি শৃঙ্খলা, পরিচ্ছন্নতা আর ইতিবাচক শক্তির প্রতীক। তাই ঘরের ছোট ছোট অভ্যাস বদলালেই বড় পরিবর্তন আসতে পারে। ঝাঁটা কোথায় রাখছেন, শৌচালয় কোন দিকে; এই বিষয়গুলো অনেকেই গুরুত্ব দেন না। অথচ এই অবহেলাই ভবিষ্যতে সমস্যার কারণ হতে পারে।
তাই বাস্তুমতে চলতে চাইলে আজই একবার ঘরটা ঘুরে দেখুন। ঝাঁটা ঠিক জায়গায় আছে তো? শৌচালয়ের অবস্থান ঠিক আছে তো? ছোট পরিবর্তনেই ফিরতে পারে লক্ষ্মীর কৃপা; এমনটাই বিশ্বাস বাস্তুশাস্ত্রের।