
আধুনিক জীবনযাত্রায় রেফ্রিজারেটর বা ফ্রিজ ছাড়া একদিনও চলা দায়। কিন্তু বসার ঘর বা রান্নাঘরের কোণে রাখা এই যন্ত্রটির ওপরের অংশটি আমরা অনেকেই স্টোররুম হিসেবে ব্যবহার করি। বাস্তুশাস্ত্রবিদদের মতে, ফ্রিজের ওপর ভুল জিনিস রাখা কেবল যান্ত্রিক ক্ষতিই করে না, বরং বাড়িতে নেতিবাচক শক্তির প্রভাবে চরম অশান্তি ও আর্থিক অনটন ডেকে আনতে পারে। অজান্তেই আমরা এমন কিছু বস্তু সেখানে সাজিয়ে রাখি যা বাস্তু দোষের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে ফ্রিজের ওপর ভারী বাসনপত্র বা ওজনের জিনিস রাখা একেবারেই অনুচিত। শাস্ত্র মতে, এর ফলে গৃহকর্তার মানসিক চাপ বৃদ্ধি পায় এবং বাড়ির ইতিবাচক এনার্জি নষ্ট হয়।
অনেকেই জায়গার অভাবে ফ্রিজের ওপরে ওষুধের বাক্স রাখেন। বিশেষজ্ঞদের দাবি, ফ্রিজ থেকে নির্গত তাপ ওষুধের গুণাগুণ নষ্ট করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যের ওপর কুপ্রভাব ফেলে। এমনকি আধ্যাত্মিক দিক থেকেও এটি অশুভ। পাশাপাশি, ফ্রিজের ওপর দেব-দেবীর ছবি, পূজার সামগ্রী বা কোনো ধর্মগ্রন্থ রাখা ঘোরতর বাস্তু অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। এই ধরণের পবিত্র বস্তু সবসময় ঠাকুরঘরে বা নির্দিষ্ট শান্ত স্থানে রাখা উচিত। ফ্রিজের মতো যান্ত্রিক বস্তুর ওপর এগুলি রাখলে সংসারে সুখ-সমৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এমনকি প্রিয়জন বা বাচ্চাদের ছবিও ফ্রিজের গায়ে লাগানো উচিত নয়, কারণ এতে উন্নতির পথ রুদ্ধ হতে পারে বলে মনে করেন অনেকে।
গৃহস্থের মঙ্গল কামনায় আরও কিছু জরুরি পরামর্শ দিচ্ছেন বাস্তু বিশেষজ্ঞরা। ফ্রিজের ওপরের অংশটি সবসময় ধুলোমুক্ত এবং পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন। ধুলোবালি জমলে রাহুর প্রভাব বৃদ্ধি পায়, যা পরিবারের সদস্যদের মধ্যে অহেতুক উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। ভুল করেও ফ্রিজের ওপর মানিব্যাগ বা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার রাখবেন না, এতে লক্ষ্মী চঞ্চলা হন। যদি একান্তই কিছু রাখতে হয়, তবে একটি পরিষ্কার সুন্দর কভার বিছিয়ে সাজিয়ে রাখুন। সংসারের শ্রীবৃদ্ধি বজায় রাখতে ফ্রিজের ওপরের এই সামান্য পরিবর্তনই আপনার জীবনে পজিটিভ এনার্জির জোয়ার আনতে পারে।