
প্রায় রোজই কমছে টাকার দাম। ইতিমধ্যেই ডলারের সাপেক্ষে ৯২ টাকার গণ্ডি ছুঁয়েছে টাকা। যার ফলে চিন্তিত বিশেষজ্ঞরা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ। সকলেই বুঝতে চাইছেন, ডলারের তুলনায় ভারতীয় মুদ্রা দুর্বল হলে ক্ষতিটা হবে ঠিক কোথায়? আর সেই উত্তরটাই দেওয়া হল নিবন্ধটিতে।
প্রসঙ্গত, বেশ কিছু মাস ধরেই পড়ছিল টাকা। আর ২০২৬-এর জানুয়ারিতেও সেই ধারা অব্যাহত। এই মাসে ২.৩ শতাংশ পড়ে গিয়েছে টাকার দাম। আর এই পতনটা যে ভারতীয় অর্থনীতির জন্য ভাল নয়, সেটার ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।
পড়েই যাচ্ছে টাকা
ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যাবে, টাকার সাপেক্ষে প্রায় নিয়ম করেই শক্তিশালী হয়েছে আমেরিকার ডলার। বৃহস্পতিবার এটি শেষ করেছিল ৯১.৯৫৫০ টাকায়। আর শুক্রবার ১ ডলারের দাম রয়েছে ৯১.৯১২৫ টাকায়।
কেন পড়ছে টাকার দাম?
সারা বিশ্বেই এখন ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা বর্তমান। যার ফল ভুগছে টাকার দাম।
এছাড়া আমেরিকার শুল্ক থেকে শুরু করে বাণিজ্য সমস্যাও অনুঘটকের মতো কাজ করেছে। শুধু তাই নয়, উঠতি মার্কেটে থেকে টাকা নিয়ে চলে যাচ্ছে বিনিয়োগকারীরা। সেই কারণেই দাম কমছে টাকার। শক্তি বাড়ছে ডলারের।
এই প্রসঙ্গে বলে রাখি, ভারতের কারেন্ট অ্যাকাউন্ট রয়েছে কম। এর সহজ অর্থ হল আমদানি এবং রফতানির মাঝের ফাঁক পূরণ করার জন্য আমরা বিদেশি পুঁজির প্রতি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছি। আর সেই কারণেই টাকার দামের উপর চাপ বাড়ছে।
কীভাবে বাড়বে টাকার দাম?
এই বিষয়টা স্পষ্ট করেছেন ভারতের মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড: ভি অনন্ত নাগেশ্বরন। তিনি জানান, ম্যানুফাকচারিং সেক্টরে রফতানি বাড়লেই ভারতের হাতে আসবে বিদেশি মুদ্রা। যার ফলে ভারতের টাকার উপর ভরসা বাড়বে। তখন গিয়ে টাকার দামে উন্নতি সম্ভব। আর এমনটা ইতিমধ্যেই জাপান, সুইৎজারল্যান্ড, কোরিয়া করে ফেলেছে বলে উদাহরণ দেন তিনি।
কী ক্ষতি হতে পারে?
টাকার দাম কমলে হুট করে কোনও বিরূপ প্রভাব পড়বে না ভারতের অর্থনীতিতে। তবে এটা প্রমাণ করে যে ভারতে বিদেশি পুঁজি কমছে। বিনিয়োগকারীরা সতর্ক রয়েছেন। আর এমনটা চলতে থাকলে বাড়তে পারে মুদ্রাস্ফীতি।
মাথায় রাখতে হবে ভারত পেট্রোলিয়াম প্রোডাক্ট আমদানি করে ডলারের মাধ্যমে। আর ডলারের দাম বৃদ্ধি পেলে পেট্রোল, ডিজেল সহ অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্যের দামও বৃদ্ধি পাবে। এর সঙ্গে বৃদ্ধি পেতে পারে পরিবহণের খরচ। তখন জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি পাবে। আর এটাই চিন্তার। এছাড়া যাঁরা বিদেশি পড়ছেন, তাঁদের বেশি টাকা খরচ হবে।