
২০২৬ সালের বাজেট যত এগিয়ে আসছে। ততই দেশের রিয়েল এস্টেট খাত অ্যাক্টিভ হয়ে উঠছে। কোভিডকালীন সময়ের পর থেকেই ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে এই সেক্টরটি। এবার পুরো রিয়েল এস্টেট খাত তাকিয়ে রয়েছে বাজেট ২০২৬-এর দিকে। হাউজিং সেক্টরের প্রত্যাশা, বাজেটে কেন্দ্রীয় নির্মলা সীতারমন এমন একটি রোডম্যাপ দেবেন যার ফলে রিয়েল এস্টেট খাত আরও চাঙ্গা হয়ে উঠবে।
তবে শুধু হাউজিং সেক্টর বা বিক্রেতারা নয়। বরং যারা প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে চান তারাও বাজেটের জন্য সবচেয়ে বেশি আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছেন। তাঁরা আশা করছেন, সরকার গৃহঋণ সস্তা করবে, সুদের ক্ষেত্রে ভর্তুকি দেবে এবং ঋণ পরিশোধের সময়কাল আরও দীর্ঘ করবে। বিশেষ করে বড় শহরের বাসিন্দারা EMI-এর বোঝা থেকে মুক্তি পেতে চাইছেন।
রয়্যাল গ্রিন রিয়েলটির ম্যানেজিং ডিরেক্টর যশঙ্ক ভাসান এ প্রসঙ্গে বলেন, "রিয়েল এস্টেটের পরবর্তী বৃদ্ধির ইঞ্জিন হল ছোট শহর। এই বাজারগুলি শুধুমাত্র কম খরচে বড় প্রজেক্ট করছে তাই নয়। বরং ক্রেতাদের প্রত্যাশাও পূরণ করছে। এই শহরগুলিতে বড় কোম্পানিগুলির উপস্থিতি প্রমাণ করছে, এখানেও ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আসন্ন বাজেটে সরকার কর ছাড় দেওয়ার মাধ্যমে এই খাতটিকে একটি নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে তুলে ধরবে বলে আশা করা হচ্ছে।"
সিপিট্রার-এর ফাউন্ডার হর্ষ গুপ্ত বলছেন, "আজকের গড় বিনিয়োগকারীরা জটিল নয় বরং সহজ বিনিয়োগ নিয়ম চান। ২০২৬ সালের বাজেটের মূল দাবি হল, দীর্ঘমেয়াদী লাভের উপর কর সরলীকরণ করা যাতে আরও বেশি লোক শেয়ার বাজার এবং ডিজিটাল পণ্যগুলিতে বিনিয়োগ করতে পারে। পাশাপাশি সোনার বন্ড ও ডিজিটাল সোনার মতো বিনিয়োগের জন্যও স্পষ্ট নিয়ম থাকা উচিত। সরকার যদি দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগকারীদের কর ছাড় দেয় তাহলে দেশে আর্থিক গতি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।"
হোয়াইটল্যান্ড কর্পোরেশনের ফাউন্ডার নবদীপ সারদানা বলেছেন, "২০২৬ সালের বাজেট থেকে রিয়েল এস্টেট সেক্টরের প্রত্যাশা অনেক কিছু। গত বছর, অফিস স্পেস এবং প্রিমিয়াম সম্পত্তির চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছিল। যা সরকারের তরফে সম্পূর্ণরূপে সমর্থিত ছিল। প্রিমিয়াম রিয়েল এস্টেট এখন কেবল একটি পছন্দ নয় বরং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একটি প্রধান বাজার হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি, এই খাতটি আশা করছে, ২০২৬ সালের বাজেটে অর্থায়ন এবং স্মার্ট হোম প্রযুক্তির উপর জোর দেওয়া হবে। NRI বিনিয়োগকারীদের জন্য TDS নিয়মের আরও সরলীকরণ করা হলে বিদেশি ডলারের বিনিয়োগ আরও সহজ হবে।"