Advertisement

Lpg Gas Cylinder : কলকাতা ও আশপাশে LPG বুকিং বেড়েছে ১৫-২০%, সত্যিই কি রান্নার গ্যাসের ক্রাইসিস রয়েছে?

ইরানে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সত্যিই কি রান্নার গ্যাসের (LPG GAS) অভাব দেখা যেতে পারে? এই প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে মানুষের মনে। অনেকে তো রান্নার গ্য়াস সিলিন্ডার মজুতও করে রাখতে চাইছেন।

LPG কেনার এত হিড়িক কেন? LPG কেনার এত হিড়িক কেন?
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 09 Mar 2026,
  • अपडेटेड 5:41 PM IST
  • ইরানে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সত্যিই কি রান্নার গ্যাসের (LPG GAS) অভাব দেখা যেতে পারে?
  • এই প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে মানুষের মনে

ইরানে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সত্যিই কি রান্নার গ্যাসের (LPG GAS) অভাব দেখা যেতে পারে? এই প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে মানুষের মনে। অনেকে তো রান্নার গ্য়াস সিলিন্ডার মজুতও করে রাখতে চাইছেন। খবরে প্রকাশ, গত কয়েকদিনে নয়ডা, উত্তরপ্রদেশের সীতাপুর, কলকাতা-সহ একাধিক জায়গায় গ্যাস এজেন্সির বাইরে খালি এলপিজি সিলিন্ডার হাতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছে বহু গ্রাহককে। এই সংক্রান্ত ভিডিও ভাইরালও হয়েছে। 

তবে লাইনে দাঁড়ালেও ইন্ডিয়া টুডে ডিজিটালের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অনেক গ্রাহক জানিয়েছেন, বাস্তবে এলপিজি সরবরাহে তেমন কোনও ঘাটতি নেই। কেন্দ্রীয় সরকারও দেশে এলপিজি সঙ্কটের দাবি নাকচ করেছে।

সরকারের তরফে গোটা বিষয়টি পরিষ্কারভাবে জানানো হলেও অনেকের দাবি, ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতিকে হাতিয়ার করে অনেকে গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে কালোবাজারি করতে চাইছেন। যেমন, উত্তরপ্রদেশের একটি ছোটো শহরের এক বাসিন্দার দাবি, বাধ্য হয়ে ব্ল্যাক মার্কেট থেকে তাঁকে এলপিজি সিলিন্ডার ১,৫০০ টাকায় কিনতে হয়েছে। অনেকের আরও দাবি, রমজান মাসে মানুষের প্রয়োজনিয়তার কথা ভেবে গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে কালোবাজারি চলছে। 

কলকাতাতেও আতঙ্কের ছবি দেখা গেছে। গত ৭ মার্চ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে 'The Times of India' জানায়, গত পাঁচ থেকে ছয়  দিনে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় এলপিজি সিলিন্ডারের বুকিং প্রায় ১৫ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। বিশেষ করে কলকাতা এবং তার আশপাশের জেলাগুলিতে এই প্রবণতা বেশি লক্ষ্য করা গিয়েছে। যদিও স্থানীয় গ্যাস এজেন্সির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাঁদের তরফে গ্রাহকদের বলা হয়েছে, আতঙ্কের কোনও কারণ নেই। 

যদিও গত ৩ মার্চ প্রকাশিত 'The Hindu' এক প্রতিবেদনে জানায়,  সরকার জানিয়েছে, দেশে পর্যাপ্ত এলপিজি মজুত আছে। যা প্রায় ২৫ থেকে ৩০ দিনের চাহিদা মেটানোর জন্য যথেষ্ট। 

জ্বালানি বিশ্লেষক চেতন ভুটানি জানান, ১৫ থেকে ২০ দিনের এলপিজি চাহিদা মেটানো সম্ভব। সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলেও দেশের ক্রুড অয়েলের মজুত প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ দিন পর্যন্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে পারে।

Advertisement

কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী জানিয়েছেন, ভারতে জ্বালানির কোনও ঘাটতি নেই এবং গ্রাহকদের উদ্বিগ্ন হওয়ারও কারণ নেই। তিনি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ লেখেন, 'আমাদের প্রধান লক্ষ্য হল নাগরিকদের জন্য সাশ্রয়ী ও টেকসই জ্বালানি নিশ্চিত করা। আমরা সেই কাজ স্বচ্ছন্দেই করছি। ভারতে জ্বালানির কোনও ঘাটতি নেই এবং গ্রাহকদের চিন্তার কোনও কারণ নেই।'

এছাড়াও কেন্দ্র সরকার দেশের সমস্ত এলপিজি রিফাইনারিকে উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে, যাতে সারা দেশে পর্যাপ্ত সরবরাহ বজায় থাকে। ৬ মার্চ সংবাদ সংস্থা ANI জানায়, এলপিজি মজুতের দিক থেকে ভারত এখনও স্বচ্ছন্দ অবস্থায় রয়েছে।

সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে এজেন্সির সামনে যে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে তার প্রধান কারণ সরবরাহ ভেঙে পড়া নয়, বরং আতঙ্কে একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক গ্রাহকের বুকিং করা। অনেকেই একসঙ্গে সিলিন্ডার রিফিল করতে ছুটে আসায় বিতরণ ব্যবস্থার উপর সাময়িক চাপ তৈরি হয়েছে। কিছু জায়গায় এজেন্সির অনিয়ম বা মজুত আটকে রাখার অভিযোগও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে, যার ফলে কালোবাজারেও সিলিন্ডার বিক্রির খবর মিলছে। 

Read more!
Advertisement
Advertisement