
পিএফ গ্রাহকদের জন্য বড় ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী মনসুখ মান্ডভিয়া। তিনি জানিয়েছেন, চলতি বছর জুনের মধ্যেই এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন (EPFO) নতুন সফটওয়্যার ব্যবস্থা EPFO 3.0 চালু করতে চলেছে। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী জানান, নতুন ব্যবস্থায় ব্যাঙ্কিংয়ের মতোই সুবিধা পাবেন পিএফ গ্রাহকরা। এছাড়া সংস্থার ওয়েবসাইট ইন্টারফেস আরও সরল করা হবে।
মনসুখ মান্ডভিয়া বলেন,'EPFO 3.0 চালু হওয়ার পরে পিএফ গ্রাহকদের দেওয়া হবে একটি করে এটিএম কার্ড। ওয়েবসাইটকে আরও ব্যবহারকারী-বান্ধব করার প্রাথমিক ধাপের কাজ ২০২৫ সালের জানুয়ারির শেষের দিকে শেষ হবে। এর লক্ষ্য গোটা প্রক্রিয়াকে আরও সরলীকরণ করা।
কবে থেকে এটিএমে পিএফের টাকা তোলা যাবে?
পিএফ সদস্যরা পাবেন একটি এটিএম কার্ড। সেই কার্ডের মাধ্যমেই পিএফ সঞ্চয় থেকে টাকা তুলতে পারেন। আপৎকালীন অর্থের অভাব মেটাতে পারবেন পিএফের জমানো টাকায়। গত মাসে শ্রম সচিব সুমিতা দাওরা ঘোষণা করেছিলে,EPFO গ্রাহকরা ২০২৫ সালেই এটিএম-এর মাধ্যমে পিএফের টাকা তুলতে পারবেন।
কত টাকা তোলা যাবে?
সব পিএফ গ্রাহকরাই টাকা তোলার সুবিধা পাবেন। তবে অ্যাকাউন্টে মোট জমাকৃত টাকার ৫০%-ই তুলতে পারবেন। EPFO-তে কতটা জমা রাখতে চান গ্রাহকরা, সে ব্যাপারেও চলছে ভাবনাচিন্তা। বর্তমানে বেতনের ১২ শতাংশ জমা রাখতেই হয়। সেই কম বা বেশি করার ব্যাপারে গ্রাহক যাতে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, সেই প্রস্তাব বিবেচনাধীন।
মোবাইল ব্যাঙ্কিংয়ের মতো অ্যাপের সুবিধা
পিএফ গ্রাহকদের জন্য তৈরি হচ্ছে একটি বিশেষ অ্যাপও। এর মাধ্যমে সদস্যরা অ্যাকাউন্টে মাসিক জমা, পেনশন তহবিল, আগের চাকরি থেকে কতটা পেয়েছেন, তা দেখতে পাবেন। শুধু তাই নয়, মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে পিএফ অ্যাকাউন্টে অদলবদলও করতে পারেন।
এখন কত জমা রাখতে হয়?
বর্তমানে কর্মচারী এবং নিয়োগকর্তা মূল বেতন, মহার্ঘ ভাতা এবং যে কোনও ধরনের রিটেনিং ভাতার ১২ শতাংশ জমা দেওয়া হয় পিএফে। নিয়োগকর্তাও জমা দেন ১২ শতাংশ। ইপিএফ-এ ৩.৬৭ শতাংশ এবং ইপিএস-এ ৮.৩৩ শতাংশ জমা রাখা হয়। এর সঙ্গে ১.১৬৭ শতাংশ কর্মচারীর পেনশনের জন্য টাকা জমা করে ভারত সরকার। এই সব কর্মীদের আয় ১৫ হাজার টাকার কম।