
সোনা দেড় লক্ষ ছাড়িয়ে যাবে। রুপো ছাড়াবে ২ লক্ষ! দীপাবলির আগে এমনটাই ভেবেছিলেন বহু মানুষ। কিন্তু হঠাৎ কী হল? সোনা ও রুপোর বুদবুদ কি ফেটে গেল? নাকি এই পতন স্বাভাবিক? সবচেয়ে বড় প্রশ্ন: এখন কী করা উচিত? এটাই কি কেনার সুযোগ?
গত ২১ অক্টোবর থেকে কমছে সোনার দাম। ইকোনমিক টাইমসের রিপোর্ট অনুযায়ী, সোনা ৬.৩% কমেছে। ১২ বছরের মধ্যে একদিনে এটাই সোনার সবচেয়ে বড় পতন। ২০১৩ সালের পর আর কখনও এমনটা হয়নি। রুপোর দামও কমেছে। ব্লুমবার্গের রিপোর্ট বলছে, ৮.৭% কমেছে রুপোর দাম। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারির পর থেকে এটাই ছিল রুপোর সবচেয়ে বড় পতন। এর প্রভাব ভারতেও পড়েছে।
গুড রিটার্নসের মতে, ২২ অক্টোবর দিল্লিতে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১,২৭,৩৫০ টাকায় নেমে আসে। একদিনে কমেছে ৩,৩৮০ টাকা। ২২ ক্যারেট সোনা প্রতি ১০ গ্রামে কমেছে ৩,১০০ টাকা। তা কমে হয়েছে ১,১৬,৭৫০ টাকা। রুপোও প্রতি কেজিতে ২,০০০ টাকা কমেছে। তা বিকোচ্ছে ১,৬২০,০০০ টাকায়।
শুক্রবার আরও সস্তা সোনা ও রুপো
শুক্রবারও কমেছে সোনা ও রুপোর দাম। ইন্ডিয়ান বুলিয়ন অ্যান্ড জুয়েলারি অ্যাসোসিয়েশনের পরিসংখ্যান বলছে, ২৪ ক্যারেট সোনার দাম বৃহস্পতিবারের চেয়ে কমল ২ হাজার টাকা। এ দিন ১০ গ্রাম হলুদ ধাতুর দর ১ লক্ষ ২১ হাজার টাকার মতো। কমেছে ২২ ক্যারেট সোনার দামও। প্রতি ১০ গ্রামে প্রায় ১ হাজার ৭০০ টাকা। ১ লক্ষ ১১ হাজার ৩১০ টাকায় নেমে এসেছে ২২ ক্যারেট সোনা। রূপোর দাম পড়েছে ৪,৪০০ টাকা। তবে গয়নার দাম বেশি পড়বে। কারণ গয়নার সঙ্গে যোগ হয় জিএসটি এবং মজুরি।
এবার এর পিছনে আসল কারণ জেনে নেওয়া যাক। প্রথমত, প্রফিট বুকিং বা লাভ তুলে নেওয়া। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনের মতে, চলতি বছর সোনা ৫৬% বেড়েছে। যা আগে কখনও এতটা বাড়ে। বিনিয়োগকারী এবং ব্যবসায়ীরা মুনাফা বুকিং শুরু করেন। সহজ ভাষায়, মাল বেচে ঘরে লাভ তুলে নেওয়া। যখন বহু মানুষ একসঙ্গে বিক্রি করে, তখন দাম কমতে বাধ্য।
দ্বিতীয়ত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চিনের মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা হ্রাস। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে ইতিবাচক বাণিজ্য আলোচনার খবর পাওয়া গিয়েছে। ফলে অনিশ্চয়তার মেঘ কেটে গিয়েছে। সে কারণে সোনা ছেড়ে অন্য বিনিয়োগের পথ খুঁজে নিচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা।
তৃতীয়ত, ফিজিক্যাল গোল্ডের চাহিদা হ্রাস। দীপাবলির পরে ভারতে সোনা ও রুপোর গয়নার চাহিদা কিছুটা কমেছে। ধনতেরাস এবং দীপাবলির সময় যে উৎসাহ ছিল তা এখন ঠান্ডা। ভারতের মতো বৃহৎ বাজারে চাহিদা কমে গেলে অবশ্যই এর প্রভাব পড়বে।
সোনা ও রুপো কি কিনবেন
সোনা কেনাবেচা নির্ভর করে অর্থনীতির উপরে। অর্থনৈতিক টালমাটাল চললে সোনায় বিনিয়োগ নিরাপদ। আবার সুস্থির অর্থনীতি হলে শেয়ারে বিনিয়োগ বাড়ে। আবার বিশ্ব বাজারে রুপোর ঘাটতি। ইলেকট্রনিক্স এবং সৌর উৎপাদন ইউনিট তৈরিতে লাগে রুপো। তাই রুপোর ব্যাপক চাহিদা। সোনা ধীরে ধীরে কিনুন। শেয়ার বা ধাতু, কিছুতে প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করবেন না। অল্প অল্প করে সোনা জমান। সোনায় ইতিমধ্যেই বিনিয়োগ থাকলে তা অল্প পরিমাণে বিক্রি করুন। অল্প লাভ করুন। সব বিক্রি করার দরকার নেই। একটা অংশ ধরে রাখুন। কারণ সোনায় দীর্ঘমেয়াদী লাভ হতে পারে। পোর্টফোলিওর ১০ থেকে ১২% মূল্যবান ধাতুতে রাখুন। অর্থাৎ সোনা ও রূপো, বাকিটা ইকুইটি অর্থাৎ স্টকে রাখুন এবং অন্যান্য স্কিমে বিনিয়োগ করুন।