
রাশিয়ার থেকে তেল কেনা দেশগুলির উপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপানোর বিষয়ে নিজের সহমত জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার এই কারণে ভারতীয় শেয়ারবাজারে বিরাট ধস নামে। দাম কমে বেশ কিছু স্টকের। আর আজও সেই ধারা অব্যাহত। সপ্তাহের শেষ দিনেও এই সব স্টকের দাম পড়েছে।
আসলে এই শেয়ারগুলি আমেরিকায় পণ্য রপ্তানি করা সংস্থার। আর ডোনাল্ড ট্রাম্প ৫০০ শতাংশ শুল্ক ঘোষণা করলে যে আদতে এই সব কোম্পানির উপর বড়সড় আঘাত নেমে আসবে, এই কথা ইতিমধ্যেই বুঝে গিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। তাই তাঁরা স্টক বেঁচতে শুরু করেছেন। যার ফলে পড়ছে দাম।
আসলে ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়াকে একটু 'টাইট' দিতে চান। আর সেটা করার জন্য তিনি মস্কো থেকে তেল, গ্যাস ও অন্যান্য শক্তি কেনা দেশগুলির উপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর কথা ঘোষণা করেছেন। আর সেই কারণে যে রপ্তানি মার খাবে, এই কথা তো বলাই বাহুল্য। যার ফলে কমতে শুরু করেছে কয়েকটি স্টকের দাম।
কোন কোন স্টকের দাম পড়ছে?
বৃহস্পতিবার টেক্সটাইল, সিফুড এবং ফার্মাসিউটিক্যাল সংস্থার শেয়ারের দাম হু হু করে পড়ছে। টেক্সটাইলের মধ্যে Gokaldas Exports, KPR Mill, Vardhman Textiles এবং Welspun Living-এর দাম পড়েছে ২ থেকে ১২ শতাংশ। এছাড়া Hrimp exporters Avanti Feeds, Apex Frozen Foods ও Coastal Corporation-এর শেয়ারের দামও কমেছে ২ থেকে ৮ শতাংশ।
কী হতে পারে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকা এই শুল্ক চাপিয়ে দিলে ভারতের যাতা অবস্থা হবে। বিশেষত, আমেরিকায় পণ্য রপ্তানিকারী ভারতীয় সংস্থাগুলি বিপদে পড়বে। তাদের ব্যবসার হাল হবে শোচনীয়।
কেন আমেরিকা এই বিলটা আনছে?
বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে জানান হচ্ছে, আমেরিকা মূলত ভারত এবং চিনের উপর আঘাত আনতে চায়। রাশিয়ার তেল কেনার জন্যই এই শুল্ক চাপানো হবে বলে খবর।
নতুন এই আইন পাশ হয়ে গেলে রাশিয়া থেকে তেল কেনা দেশগুলির উপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপানো যাবে। আর সেই কারণেই স্টক মার্কেটের দশা এত খারাপ।
ভারত এবং আমেরিকার বাণিজ্য চুক্তি কতদূর?
আমেরিকা এবং ভারতের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছিল। তবে নতুন করে এই বিল আনার পর সেই চুক্তি বিশ বাঁও জলে চলে গেলে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। উল্টে আরও খারাপ সময় আসতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।