
হু হু করে বাড়ছে সোনার দাম। থামার কোনও লক্ষণই নেই। আর এমন পরিস্থিতি অনেকেরই হাতের নাগালের বাইরে চলে গিয়েছে সোনা। তাদের পক্ষে হলুদ ধাতুর গয়না কেনা খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই অনেকেই এখন গোল্ড প্লেটেড জুয়েলারির দিকে ঝুঁকছেন। দুধের স্বাদ মেটাচ্ছেন ঘোলে। তবে প্রশ্ন হল, সোনার দাম যখন ঊর্ধ্বমুখী, তখন কি গোল্ড প্লেটেড জুয়েলারির দাম বাড়বে না? আর সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে নিতেই আমরা যোগাযোগ করেছিলাম দ্য ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব ইন্ডিয়ার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট এবং Manasi Research Foundation-এর চেয়ারম্যান মানসকুমার ঠাকুরের সঙ্গে।
তিনি আমাদের জানালেন, সোনার গয়না আর সোনার জল পরানো গয়নার মধ্যে আকাশপাতাল তফাত রয়েছে। আসলে অনেকেই মনে করেন গোল্ড প্লেটেড জুয়েলারিতে বোধহয় সোনা দিয়ে রং করা হয়। তবে বিষয়টা একবারেই তেমন নয়। গোল্ড প্লেটেড জুয়েলারির সঙ্গে সোনার কোনও সম্পর্ক নেই।
তাহলে বিষয়টা কী?
মানসবাবু বলেন, গোল্ড প্লেটেড জুয়েলারি বিভিন্ন ধাতুর সংমিশ্রণে তৈরি হয়। আর সোনার যে রংটা আসে, সেটা হল এক ধরনের কেমিক্যাল। এই রাসায়নিকের দৌলতেই সোনার মতো দেখায় জুয়েলারি। এক্ষেত্রে যত ভালো মানের কেমিক্যাল ব্যবহার হবে, ততই রংটা প্রকট হবে। দেখে বোঝা যাবে না গয়নাটা আসল নাকি নকল সোনা দিয়ে তৈরি। আর সেই কারণেই এখনও গোল্ড প্লেটেড জুয়েলারির এত চাহিদা।
শুরুটা হয় ইতালিতে
এই ধরনের গয়নার ব্যবহার নতুন নয়। বরং এটা প্রথমে শুরু হয় ১৮০৫ সালে ইতালিতে। তারপর সারা পৃথিবীতেই ছড়িয়ে পড়ে এর চাহিদা। এখন গোটা বিশ্বেই এই জুয়েলারির ব্যবহার হয়।
বর্তমানে কোথায় কত তৈরি হয়?
এই ধরনের গয়না তৈরিতে এক নম্বর জায়গা দখল করে রেখেছে চিন। সেখানে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ গোল্ড প্লেটেড সোনার গয়না তৈরি হয়। এরপরই অবশ্য রয়েছে ভারতের স্থান। এখানে ২০ শতাংশের মতো তৈরি হয়। এছাড়া আমেরিকায় ১৫ শতাংশ, ফ্রান্স ও ইতালিতে ১০ শতাংশ করে তৈরি হয় এই গয়না।
এর দামও কি বাড়তে পারে?
এই প্রসঙ্গে মানসবাবু বলেন, আগেই বলেছি সোনার সঙ্গে এর কোনও সরাসরি সম্পর্ক নেই। তাই এর দাম আর সোনার দামের আকাশপাতাল তফাত রয়েছে। এক্ষেত্রে সোনার ব্যবহার না থাকায় গোল্ড প্লেটেড জুয়েলারির দামও বাড়বে না। উল্টে এর উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে। ফলে যাঁরা এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত, তাঁরা আরও লাভবান হবেন। দেশের জিডিপি-তে এই ব্যবসার প্রত্যক্ষ প্রভাব বাড়তে পারে।
দেখে কিনুন
গোল্ড প্লেটেড জুয়েলারির অনেক ধরন রয়েছে। ভাল মানের না কিনলে ঠকতে হবে। কিছুদিনের মধ্যেই উঠে যাবে রং। পয়সা জলে যাবে। তাই কেনার সময় অবশ্যই মানটা যাচাই করে নিন।