Advertisement

Economy News: জনসংখ্যাই অস্ত্র, চিন ও USA-কে টেক্কা দিয়ে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হবে ভারত

চলতি শতকের শেষেই আমেরিকা ও চিনকে টপকে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে ভারত। অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা(OECD)-র রিপোর্ট অন্তত সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে।

শতকের শেষে বিশ্বে এক নম্বর ভারত? OECD-র রিপোর্টে আমেরিকা-চিনকে টপকানোর ইঙ্গিত।শতকের শেষে বিশ্বে এক নম্বর ভারত? OECD-র রিপোর্টে আমেরিকা-চিনকে টপকানোর ইঙ্গিত।
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 25 Jan 2026,
  • अपडेटेड 3:30 PM IST
  • চলতি শতকের শেষেই আমেরিকা ও চিনকে টপকে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে ভারত।
  • অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা(OECD)-র রিপোর্ট অন্তত সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে।
  • হফম্যানের ব্যাখ্যা, চলতি শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।

চলতি শতকের শেষেই আমেরিকা ও চিনকে টপকে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে ভারত। অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা(OECD)-র রিপোর্ট অন্তত সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরের ইস্ট এশিয়ান ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর এবং MERICS-এর সিনিয়র অ্যাসোসিয়েট ফেলো বার্ট হফম্যান এই বিশ্লেষণ করেছেন। হফম্যানের ব্যাখ্যা, চলতি শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, ২০৬০ সালের মধ্যেই ভারত অর্থনীতির আকারের নিরিখে আমেরিকাকে পিছনে ফেলে দিতে পারে। শুধু তাই নয়, চলতি শতাব্দীর শেষেই ভারতের অর্থনীতি চিনের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে পারে বলেও অনুমান করা হয়েছে। অন্য দিকে, আমেরিকা ২০৪০-এর দশকে তৃতীয় স্থানে নেমে যেতে পারে। তবে দীর্ঘ মেয়াদে, ২০৭০ নাগাদ ফের চিনের সমকক্ষ হয়ে উঠতে পারে।

সময়ের সঙ্গে যেভাবে পাল্টে যেতে পারে বিশ্ব অর্থনীতি

দশক প্রথম দ্বিতীয় তৃতীয়
২০২০ US চিন ভারত
২০৪০ চিন ভারত US
২০৬০ ভারত চিন US
২১০০ ভারত US চিন

কিন্তু বিশ্ব অর্থনীতি এতটা পাল্টে যাবে কেন?
এক কথায় এর উত্তর হল, 'জনসংখ্যা'। এই জনবিন্যাসে পরিবর্তনের ফলেই অর্থনীতির আকারে পরিবর্তন হবে বলে মনে করা হচ্ছে। OECD-এর সমীক্ষায় মূলত জনসংখ্যার রদবদলের ফলে অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়তে পারে, তারই বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

২০২৪ সালে রাষ্ট্র সংঘের জনসংখ্যা দফতর একটি পূর্বাভাস দিয়েছিল। তাতে বলা হয়েছিল, চিনের জনসংখ্যা অনেকটাই দ্রুত হারে কমতে শুরু করবে। হফম্যানের বিশ্লেষণ, চলতি শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে দ্রুত হারে চিনের জনসংখ্যা কমতে থাকবে।

হিসাব অনুযায়ী, ২১০০ সালে চিনের জনসংখ্যা নেমে আসতে পারে প্রায় ৬৫ কোটি ৫০ লক্ষে। এর ফলে সেদেশের শ্রমশক্তি কমবে।

অন্য দিকে, ২০৬০ সালের পর ভারতের জনসংখ্যা কমতে শুরু করবে। তা সত্ত্বেও, ২১০০ সালে ভারতের শ্রমশক্তি বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশিই থাকবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি, ভারতের কর্মক্ষম বয়সের মানুষের সংখ্যাও বেশি থাকবে। 

চিনের নীতিই তার ভাগ্য স্থির করবে
তবে চিন যে একেবারেই পিছিয়ে যাবে, সেটা ভাবাও ঠিক নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবোটিক্সের মতো প্রযুক্তি নিয়ে চিনে ভালই কাজ হচ্ছে। সেটা কাজে লাগাতে পারলে চিন শ্রমদক্ষতার ঘাটতি অনেকটাই পুষিয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি, চিন বর্তমানে ভোগব্যয় বাড়ানোর নীতি নিয়েছে। ফলে কর্মক্ষম মানুষের শ্রমের অংশ নেওয়ার প্রবণতাও বাড়বে।

Advertisement

তা সত্ত্বেও, জনসংখ্যার নিরিখে ভারত অনেকটাই এগিয়ে থাকবে। ফলে চলতি শতাব্দীর শেষে ভারত বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি হয়ে ওঠার সম্ভাবনা প্রবল।

উল্লেখ্য, শুধু OECD নয়। এর আগে সেন্টার ফর ইকনমিক্স অ্যান্ড বিজনেস রিসার্চ (CEBR)-এর 'ওয়ার্ল্ড ইকনমিক লিগ টেবল ২০২৪' রিপোর্টেও একই ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল। উক্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, চলতি শতকের শেষে ভারতের GDP চিনের তুলনায় ৯০ শতাংশ এবং আমেরিকার তুলনায় ৩০ শতাংশ বেশি হতে পারে। ২০২৪ থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে ভারতের গড় আর্থিক বৃদ্ধির হার ৬.৫ শতাংশ থাকার পূর্বাভাসও দেওয়া হয়েছে।

তবে সবশেষে একথাও উল্লেখ্য যে, অর্থনীতির আকার বৃদ্ধি ও সাধারণ মানুষের আয় বৃদ্ধি এক নয়। দেশের অর্থনীতি এক নম্বরে থাকার মানেই যে নাগরিকের জীবনযাত্রার মানও আনুপাতিক হারে বাড়বে, এমনটা ধরে নেওয়া যায় না। সেই কারণেই সঠিক নীতি নির্ধারণ ও আয়ের বন্টনের দিকে জোর দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Read more!
Advertisement
Advertisement