
জীবন অনিশ্চিত। ভবিষ্যতেরও ঠিকঠিকানা নেই। বিমা করালে সেই অনিশ্চয়তা থেকে অনেকটাই মুক্তি মেলে। বিশেষ করে কোনও কারণে পরিবারের সদস্যের মৃত্যু হলে পথে বসতে হয় না বাকিদের। বিমার টাকা পেয়ে যান নমিনি। সন্তানের ক্ষেত্রে বৃদ্ধ মা-বাবা আর স্বামীর ক্ষেত্রে তাঁর স্ত্রী নমিনি থাকলে বিমাকৃত অর্থ পেতে পারেন। শুধু জীবন বিমাই নয় স্বাস্থ্য ও সাধারণ বিমাও কাজের। ভবিষ্যতের বড় খরচ থেকে বাঁচায়। এত সুবিধা থাকার পরও প্রিমিয়াম পরিশোধের টাকা না থাকায় অনেকেই বিমা কিনতে পারছেন না। সেই সমস্যার সমাধানে উদ্যোগী হল বিমা নিয়ন্ত্রক আইআরডিএআই (IRDAI)।
গতবছর সাধারণ বিমা বেসরকারিকরণের পথ আরও প্রশস্ত করতে বিল পাশ হয়েছিল সংসদে। তার পর থেকে জীবন বিমা বাদে সব ধরনের সাধারণ বিমায় প্রিমিয়াম বেড়েছে। আইআরডিএআই-এর তরফে জানানো হয়েছে, জীবনবিমা ছাড়া অন্যান্য বিমা ক্ষেত্রে খরচবৃদ্ধি প্রায় ২৪ শতাংশ। ফলে সাধারণ মানুষের হাতের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে সাধারণ বিমা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের অন্যান্য উন্নত দেশগুলিতে বিমার বিশাল বাজার। ভারতের মতো দেশে সেখানে সীমিত। বিমা 'মরা গাঙে' বান আনার পরিকল্পনা করেছে আইআরডিএআই।
বিমার প্রিমিয়াম দেওয়ার জন্য এককালীন ঋণের সুবিধা দেওয়ার কথা ভাবা হয়েছে। পরে ওই ঋণ মাসে মাসে কিস্তিতে পরিশোধ করবেন বিমা গ্রহীতা। এমন সুবিধা থাকলে ভারতে বিমার পথ আরও প্রশস্ত হতে পারে। বিমা কভারেজের আওতায় আসবে বৃহত্তর জনগোষ্ঠী।
সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী, খুচরো এবং কর্পোরেট দুই ধরনের গ্রাহকদের বিমা কেনার জন্য আর্থিক সুবিধা প্রদানের জন্য ভাবনাচিন্তা করছে আইআরডিএআই৷ প্রিমিয়াম পরিশোধের জন্য ঋণ নিতে পারেন গ্রাহক। তার পর কিস্তিতে সেই ধার মেটাবেন পরিশোধ করতে পারেন। একসঙ্গে প্রিমিয়াম দেওয়ার বোঝা চাপাবে না। এর ফলে আরও সহজলভ্য হবে বিমা, সেই সঙ্গে আসবে কর্পোরেট অর্থের বিনিয়োগ।
এই পরিকল্পনাকে বাস্তবায়ন করতে বিমা আইনে সংশোধনের কথা ভাবছেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। আইনে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের জন্য সরকারের সম্মতিও দরকার।