
আমেরিকা এবং ইজরায়েল মিলে হামলা চালিয়েছে ইরান। এমন পরিস্থিতিতে বন্ধ খরমুজ প্রণালী। এমনকী বন্ধ মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশের আকাশ পথও। পাশাপাশি তেল এবং গ্যাসের সঙ্কট দেখা গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বড় ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে কয়েকটি সেক্টর। এই যেমন এই যুদ্ধের জন্য ভয়াবহ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ভারতের রত্ন এবং জুয়েলারি শিল্পের হালও।
জেমস অ্যান্ড জুয়েলারি এক্সপোর্ট প্রোমোশন কাউন্সিল জানাচ্ছে, ২ বিলিয়ন ডলার, এই যুদ্ধের জন্য ভারতীয় টাকার ১৮৫০০ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আর এটা যে কত বড় অঙ্ক, সেটা নতুন করে বলতে হবে না নিশ্চয়ই! তাই চিন্তা বাড়ছে ব্যবসায়ীদের মনে।
অন্য কোথাও বিক্রি করা যাচ্ছে না
এই কাউন্সিলের তরফে জানান হয়, ভারত রত্ন এবং জুয়েলারির মোট রফতানির অনেকটাই পাঠানো হয় মধ্যপ্রাচ্যে। আর এই যুদ্ধের ফলে ব্যবসার ২০ শতাংশ ক্ষতি হয়েছে বলে খবর।
এই কাউন্সিলের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর সব্যসাচী রায় বলেন, '২ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য নষ্ট হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি যাকে ৮০০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য অন্য কোথাও পাঠানোর। কিন্তু ১.২ বিলিয়ন ডলারের জিনিস কোথাও পাঠাতে পারছি না।' আর এই কারণেই বড় ক্ষতি হতে পারে।
ভারতের বিরাট রফতানি করা হয়
মাথায় রাখতে হবে, ২০২৫ অর্থবর্ষে আমেরিকায় ২৯ বিলিয়ন ডলারের জুলেয়ারি এবং রত্ন রফতানি করেছে ভারত। এটাই ছিল সর্বোচ্চ। যদিও এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে UAE। এই দেশে ৭.৮৭ বিলিয়ন ডলারের পণ্য পাঠান হয়েছিল। কিন্তু আমেরিকা শুল্ক চাপানোর ফলে আগেই সেই রফতানিতে সমস্যা তৈরি হয়েছিল। এই অর্থবর্ষে মাত্র ৮.৩৩ বিলিয়ন ডলারই রফতানি করা হয়েছে।
দুবাইতে বিরাট সমস্যা
সব্যসাচী রায় জানিয়েছেন, আমেরিকা, ইজরায়েল এবং ইরানের যুদ্ধে যদি দুবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে বড় বিপদ হতে পারে। আসলে দুবাইতে প্রচুর পরিমাণে রফতানি হয়। তারপর দুবাই থেকে মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ে জুয়েলারি এবং রত্ন। তাই এখানে সমস্যা হলে বিপদ হতে পারে।
কেন সমস্যা?
মাথায় রাখতে হবে, জুয়েলারি এবং রত্ন রফতানি সাধারণ সমুদ্র পথে হয় না। এটা হয় আকাশপথে। যদিও ইরানের এই যুদ্ধের ফলে আকাশ সীমা বন্ধ করা হয়েছে। যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ব্যবসা। এর ফলেই বড় ক্ষতির আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। এখন দেখার পরিস্থিতি ঠিক কোন দিকে গড়ায়!