
তৃতীয় মমতা সরকারের শেষ বাজেট বৃহস্পতিবার। রাজ্য বিধানসভায় অন্তর্বর্তী বাজেট অর্থাৎ ভোট অন অ্যাকাউন্ট পেশ হতে চলেছে। নির্বাচনকে মাথায় রেখে কতটা কল্পতরু হবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? লক্ষ্মীবারে কি বাড়বে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের অর্থ? কোন কোন খাতে বরাদ্দ অর্থের পরিমাণে চমক থাকবে? সব নিয়েই চলছে হিসেবনিকেশ।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার: মহিলারা উদগ্রীব রয়েছেন নির্বাচনের আগে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের অর্থ বৃদ্ধির আশায়। বর্তমানে জেনারেল ক্যাটাগরি মহিলারা পান মাসে এক হাজার টাকা। তফসিলি জাতি ও উপজাতি মহিলারা পান ১২০০ টাকা। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, মহিলা ভোট ধরে রাখতে অন্তর্বর্তী বাজেটে লক্ষীর ভান্ডারের পরিমাণ বৃদ্ধি করতেই পারেন মমতা। তবে সেই পরিমাণ কত হতে পারে, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানা যায়নি। তবে শোনা যাচ্ছে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে। ২০২৫-২০২৬ অর্থবর্ষে এই প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ ছিল ২৭ হাজার কোটি টাকা।
DA: সরকারি কর্মচারীরা কেন্দ্রীয় হারে মহার্ঘ ভাতা পাবেন কি না, তা নিয়ে বৃহস্পতিবারই রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের রায়দান। তার মধ্যেই রাজ্য বাজেটে সরকারি কর্মচারীদের জন্য মমতা কল্পতরু হন কি না, সেটাই দেখার। সব ঠিক থাকলে সরকারি কর্মচারীদের ডিএ বাড়তে পারে ৪%। কোনও কোনও মহল আবার চূড়ান্ত আশাবাদী হয়ে এই পরিসংখ্যান ৮% পর্যন্ত জল্পনায় এনেছে।
আর কোন কোন খাতে চমক থাকতে পারে?
> প্রায় ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর আরও ৫ বছরের জন্য সরকার কী কী অঙ্গীকার করছে বা রূপরেখা তৈরি করেছে তার একটা ঝলক দেখানো হতে পারে বাজেটে।
> অঙ্গনওয়াড়ি ও আশা কর্মীদের ভাতা বৃদ্ধি হতে পারে।
> হোমগার্ড ও সিভিক ভলান্টিয়ারদের ভাতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা।
> পুর করের উপর বড় ছাড় কিংবা মধ্যবিত্তের স্বস্তিতে কোনও ঘোষণা থাকতে পারে।
> আসল চমক হতে পারে কোনও জনকল্যাণমূলক সামাজিক প্রকল্পের ঘোষণা।
> রাস্তাঘাট নির্মাণ, গ্রামীণ পরিকাঠামো, কর্মসংস্থান বৃদ্ধির মতো খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর সম্ভাবনাও প্রবল।
> সর্বোপরি রাজ্যের সামগ্রিক বাজেট বরাদ্দ ৭ থেকে ৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞ মহলের।
কেন্দ্রীয় বাজেট নিয়ে বাংলায় যে আক্ষেপ রয়েছে, সেটা রাজ্য বাজেটের পর থাকবে না বলেই উল্লেখ করছে তৃণমূল। কেন্দ্রীয় বাজেটের পরই তৃণমূলের কটাক্ষ ছিল, 'বাংলায় জিততে পারবে না জেনেই বঞ্চনা করা হয়েছে।' পাল্টা হিসেবে রাজ্য বাজেট যে অনেক বেশি 'জনমোহিনী' হতে চলেছে, সে দিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে। তবে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এদিন 'খেরোর খাতা' খুললে তবেই বোঝা যাবে, ভোটের বছরে মমতা কতটা কল্পতরু হলেন।