
বাংলার আলু চাষিদের (Potato Farmers) পাশে দাঁড়াতে চলেছে রাজ্য সরকার। আলু কিনবে রাজ্য সরকার (West Bengal government will buy potatoes)। দেশের মধ্যে আলু (Potato) উৎপাদনে পশ্চিমবঙ্গ দ্বিতীয় স্থানে। এবার ভাল দাম পাওয়ার আশা করেছিলেন কৃষকরা। যদিও আলুর সঠিক দাম না মেলার অভিযোগ করছেন কৃষকরা। যার কারণে তাঁদের লোকসান হচ্ছে। কৃষকদের দাবি, বিঘে প্রতি প্রায় প্রায় ৮ হাজার টাকা লোকসান হচ্ছে। তার ওপরে ফলনও এবার কম হচ্ছে। সব মিলিয়ে চিন্তার ভাঁজ চাষিদের কপালে।
এই পরিস্থিতিতে সরকারের কাছে আলু কেনার দাবি জানিয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা। প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতির তরফে সরকারের কাছে আলু কেনার জন্য আবেদন করা হয়। ব্যবসায়ীদের সেই আবেদনে সাড়া দিয়েছে সরকার সহায়ক মূল্যে (Minimum Procurement Price) আলু কেনার কথা জানিয়েছে। কুইন্টাল প্রতি ৬৫০ টাকা দরে সরকার ১০ লাখ মেট্রিক টন জ্যোতি আলু কিনবে। ৭ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত এই আলু কেনার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে সরকার। পরে প্রয়োজনে সময় বাড়ানো হতে পারে।
চাষিদের মাথায় রাখতে হবে যে ভাল সাইজের আলুই নেওয়া হবে। আলুর কোয়ালিটি দেখার জন্য প্রতিটি স্টোরে কৃষি বিপণণ দফতরের আধিকারিক উপস্থিত থাকবেন।
৬৫০ টাকা কুইন্টার দরে সরকার আলু কেনার কথা জানালেও দাম আরও বাড়ানোর পক্ষে সওয়াল করেছেন আলু ব্যবসায়ীরা। পশ্চিমবঙ্গ প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতির রাজ্য সভাপতি বিভাস দে বলেন, 'আমরা বারবার সরকারের কাছে সহায়ক মূল্যে আলু কেনার এবং কোল্ড স্টোরেজের ভাড়া যাতে বৃদ্ধি না হয়, তার জন্য আবেদন জানিয়ে ছিলাম। সরকার যে আমাদের আবেদনে সাড়া দিয়ে আলু কেনার উদ্যোগ নিয়েছে, সেই উদ্যোগ কে আমরা স্বাগত জানাই। কিন্তু যে দামে আলু কেনার যে সিদ্ধান্ত সরকার নিয়েছে, তাতে আমরা আশাহত হয়েছি। আলু চাষে যা খরচ হয়েছে, তাতে কমপক্ষে ৮০০ টাকা কুইন্টাল অর্থাৎ ৪০০ টাকা বস্তা দাম পেলে আলু চাষিদের কিছুটা সুরাহা হয়। দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ এলাকাতেই বর্তমানে ৬৭০-৮০০ টাকা কুইন্টাল দরে আলু বিক্রি হচ্ছে। তাই বাজার মূল্যের থেকে কম দামে কত জন সরকারকে আলু বিক্রি করবে, এই ব্যাপারে সন্দেহ আছে।'