Advertisement

Supreme Court on UGC Rules: UGC-র নতুন নিয়মে স্থগিতাদেশ সুপ্রিম কোর্টের,'অপব্যবহার হতে পারে...' বললেন CJI

উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতিভিত্তিক বৈষম্য রোধে সম্প্রতি ঘোষিত ইউজিসির নতুন নির্দেশিকা দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে সাধারণ বা তথাকথিত ‘উচ্চবর্ণ’ শ্রেণির বিভিন্ন গোষ্ঠী এই নিয়মকে একতরফা ও ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি করছে। ইতিমধ্যে সুপ্রিম কোর্টে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে এই বিধির বিরুদ্ধে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভ, প্রতিবাদ, এমনকী একজন প্রশাসনিক আধিকারিকের পদত্যাগ— সব মিলিয়ে ইউজিসির নতুন ‘ইক্যুইটি রেগুলেশন’ এখন জাতীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কের কেন্দ্রে। এই আবহে ইউজিসি-র নতুন কিছু নিয়মকে কেন্দ্র করে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্টও। বৃহস্পতিবার একটি মামলার শুনানিতে শীর্ষ আদালত ওই বিতর্কিত নির্দেশিকার উপরে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করেছে।

 ইউজিসি-র নতুন কিছু নিয়মকে কেন্দ্র করে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট ইউজিসি-র নতুন কিছু নিয়মকে কেন্দ্র করে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট
Aajtak Bangla
  • দিল্লি,
  • 29 Jan 2026,
  • अपडेटेड 2:15 PM IST

উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতিভিত্তিক বৈষম্য রোধে সম্প্রতি ঘোষিত ইউজিসির নতুন নির্দেশিকা দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে সাধারণ বা তথাকথিত ‘উচ্চবর্ণ’ শ্রেণির বিভিন্ন গোষ্ঠী এই নিয়মকে একতরফা ও ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি করছে। ইতিমধ্যে সুপ্রিম কোর্টে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে এই বিধির বিরুদ্ধে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভ, প্রতিবাদ, এমনকী একজন প্রশাসনিক আধিকারিকের পদত্যাগ— সব মিলিয়ে ইউজিসির নতুন ‘ইক্যুইটি রেগুলেশন’ এখন জাতীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কের কেন্দ্রে। এই আবহে ইউজিসি-র নতুন কিছু নিয়মকে কেন্দ্র করে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্টও। বৃহস্পতিবার একটি মামলার শুনানিতে শীর্ষ আদালত ওই বিতর্কিত নির্দেশিকার উপরে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করেছে। 

শুনানি চলাকালীন শীর্ষ আদালত বলে, 'আমরা কি ক্রমশ একটি পশ্চাৎপদ বা রক্ষণশীল সমাজের দিকে যাচ্ছি?' মামলাকারীর তরফে এ দিন সওয়াল করেন আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি। বিতর্ক ইউজিসি প্রমোশন অব ইকুইটি ইন হায়ার এডুকেশন ইনস্টিটিউশনস রেগুলেশনস, ২০২৬ ঘিরে। গত ১৩ জানুয়ারি এর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়েছিল। আদালত জানিয়েছে, ইউজিসি-র এই নির্দেশিকা উচ্চশিক্ষার প্রগতিশীল কাঠামোর ওপর আঘাত আনছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সরকারকে এই নিয়মগুলো ফের খতিয়ে দেখতে এবং প্রয়োজনে নতুন করে খসড়া তৈরি করতে বলা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নতুন নিয়মগুলি স্থগিত ও ২০১২ সালের পুরনো নিয়মগুলিই কার্যকর থাকবে।

সুপ্রিম কোর্ট  মন্তব্য করে, 'আমরা কি ভুল পথে এগোচ্ছি? আমাদের অবশ্যই একটি জাতি বিহীন সমাজের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। যাদের সুরক্ষার প্রয়োজন তাদের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা থাকতে হবে।'

সুপ্রিম কোর্ট আর কী বলেছে?
বেঞ্চ বলেছে, 'এটা অস্বীকার করা যাবে না যে এর অপব্যবহার হতে পারে। আমাদের এমন পরিস্থিতিতে পড়া উচিত নয় যেখানে স্কুলগুলিকে আলাদা করা হয়, যেমন আমেরিকাতে হয়, যেখানে শ্বেতাঙ্গদের জন্য আলাদা স্কুল স্থাপন করা হয়। ভারতের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে ঐক্য প্রদর্শন করা উচিত।' আদালত কেন্দ্রীয় সরকারকে একটি নোটিস জারি করে জবাব চেয়েছে। এই বিষয়ে পরবর্তী শুনানি ১৯ মার্চ হবে।

Advertisement

ইউজিসি এবং এর নতুন নিয়ম কী?
 বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন হল দেশের উচ্চশিক্ষার মান, সমান সুযোগ এবং নিয়ন্ত্রণের জন্য দায়ী শীর্ষ সংস্থা। কমিশন ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ থেকে সারা দেশের বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজগুলিতে Equality Regulations 2026 বাস্তবায়ন করেছে। এই বিধিমালার উদ্দেশ্য হল ক্যাম্পাসগুলিতে বর্ণবৈষম্য রোধ করা এবং সমাজের সকল শ্রেণির জন্য সমান, নিরাপদ এবং সম্মানজনক শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করা।

নতুন আইনে কী কী পরিবর্তন এসেছে? 
এতদিন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বর্ণবৈষম্য সম্পর্কিত অভিযোগগুলি মূলত SC এবং ST সম্প্রদায়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। নতুন নিয়ম অনুসারে, OBC-দেরও স্পষ্টভাবে বর্ণ বৈষম্যের বিভাগে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর অর্থ হল OBC ছাত্র, শিক্ষক এবং কর্মচারীরা এখন আনুষ্ঠানিকভাবে হয়রানি বা বৈষম্যের অভিযোগ দায়ের করতে পারবেন। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে কী কী বাধ্যতামূলক হবে? নতুন নিয়ম অনুসারে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজকে এখন SC, ST এবং OBC-দের জন্য একটি সমান সুযোগ সেল প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে একটি সমতা কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটিতে OBC, মহিলা, SC, ST এবং প্রতিবন্ধী গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। কমিটি প্রতি ছয় মাস অন্তর একটি প্রতিবেদন তৈরি করবে এবং UGC-তে জমা দেবে। UGC বলেছে যে এটি অভিযোগ পর্যবেক্ষণ, জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করবে।

উচ্চবর্ণের সঙ্গে যুক্ত সংগঠনগুলি কেন প্রতিবাদ করছে? 
এই বিধি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দেশের অনেক জায়গায় উচ্চবর্ণের সংগঠনগুলির মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেছেন যে আইনটির অপব্যবহার করা হতে পারে এবং উচ্চবর্ণের ছাত্র ও শিক্ষকদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর জন্য এটি ব্যবহার করা যেতে পারে। জয়পুরে করণি সেনা, ব্রাহ্মণ মহাসভা, কায়স্থ মহাসভা এবং বৈশ্য সংগঠনগুলি এই আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগঠিত করার জন্য সবর্ণ সমাজ সমন্বয় কমিটি  গঠন করেছে।
 

Read more!
Advertisement
Advertisement