
টেক দুনিয়ায় 'ড্রিম কোম্পানি' বললে গুগলের নামই আগে আসে। শুধু ভাল বেতনই নয়, বিশ্বমানের কাজের পরিবেশ, অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে কাজ করার সুযোগ এবং ব্যক্তিগত দক্ষতা বিকাশের পরিসর; সব মিলিয়ে গুগলে চাকরি মানেই এক ধরনের সামাজিক ও পেশাগত স্বীকৃতি। তাই প্রতি বছর ভারত-সহ গোটা বিশ্ব থেকে লক্ষ লক্ষ তরুণ-তরুণী গুগলে চাকরির জন্য আবেদন করেন। কিন্তু প্রশ্ন একটাই; গুগলে চাকরি পাওয়া কি সত্যিই এত সহজ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, গুগলে ঢোকার সবচেয়ে বড় শর্ত ডিগ্রি নয়, দক্ষতা। যদিও বাস্তবে দেখা যায়, বেশির ভাগ টেকনিক্যাল পদের ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার একটি নির্দিষ্ট কাঠামো থাকা জরুরি। সাধারণত কম্পিউটার সায়েন্স বা আইটি-তে B.E./B.Tech, MCA কিংবা কোথাও কোথাও B.Sc বা M.Sc (কম্পিউটার সায়েন্স) ডিগ্রিকে গ্রহণযোগ্য ধরা হয়। তবে গুগলের নিজস্ব দর্শন স্পষ্ট; আপনি কী জানেন, কী করতে পারেন এবং সমস্যা সমাধানে কতটা দক্ষ, সেটাই আসল।
এই কারণেই গুগলের হায়ারিং প্রক্রিয়াকে বলা হয় বহুস্তরীয় ও কঠোর। প্রথম ধাপ শুরু হয় Google Careers ওয়েবসাইটে আবেদন করার মাধ্যমে। পছন্দের পদের জন্য আবেদন করার পর জমা দিতে হয় রিজিউমে। এখানেই অনেকের ছাঁটাই হয়ে যায়। কারণ গুগল শুধু নম্বর বা ডিগ্রির দিকে তাকায় না, বরং প্রজেক্ট, ইন্টার্নশিপ, কোডিং স্কিল কিংবা বাস্তব সমস্যার সমাধানে প্রার্থীর ভূমিকা কতটা কার্যকর, সেদিকে নজর দেয়।
রিজিউমে শর্টলিস্ট হলে যোগাযোগ করে রিক্রুটার বা HR। এর পর নির্দিষ্ট পদের ভিত্তিতে হতে পারে কোডিং টেস্ট, কেস স্টাডি কিংবা টেকনিক্যাল অ্যাসেসমেন্ট। সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ক্ষেত্রে অ্যালগরিদম, ডেটা স্ট্রাকচার ও সিস্টেম ডিজাইন নিয়ে প্রশ্ন প্রায় অবধারিত। পাশাপাশি থাকে বিহেভিয়ারাল ইন্টারভিউ; যেখানে দেখা হয় দলগত কাজে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা, নেতৃত্বগুণ এবং সমস্যা মোকাবিলার মানসিকতা। শেষ ধাপে হায়ারিং কমিটি সবকিছু বিচার করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। পুরো প্রক্রিয়ায় সময় লাগতে পারে ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ।
বেতন? সেটাই তো গুগলের সবচেয়ে আলোচিত দিক। ভারতে ফ্রেশারদের জন্য বার্ষিক প্যাকেজ সাধারণত ১৫ লক্ষ থেকে শুরু করে ৪০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে; রোল ও লোকেশন অনুযায়ী তারতম্য হয়। ইন্টার্নশিপেও মাসিক ৫০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত স্টাইপেন্ড দেওয়া হয়, যা দেশের গড় মানের তুলনায় অনেকটাই বেশি।
সব মিলিয়ে বলা যায়, গুগলে চাকরি পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার নয়; এটা প্রস্তুতির ফল। সঠিক দক্ষতা, ধৈর্য এবং ধারাবাহিক চর্চাই এই স্বপ্নের দরজা খুলতে পারে।