
কলকাতার রাজপথে ফের শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে বিক্ষোভ। মাদ্রাসায় আরবি ও অ্যাডভান্সড আরবি শিক্ষকের নিয়োগ দ্রুত শুরু করার দাবি তুললেন চাকরিপ্রার্থীরা। সংখ্যালঘু উন্নয়ন খাতে বাজেট বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ ঝুলে থাকার অভিযোগে সরব আন্দোলনকারীরা।
রানি রাসমনি রোডে মাদ্রাসা শিক্ষক পদপ্রার্থীদের বিক্ষোভ
এবার Rani Rashmoni Road-এ জমায়েত মাদ্রাসা শিক্ষক পদপ্রার্থীদের। দাবির কেন্দ্রে আরবি ও অ্যাডভান্সড আরবি বিষয়ে দীর্ঘদিনের নিয়োগ জট।
আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, প্রতি বছর রাজ্য বাজেটে সংখ্যালঘু উন্নয়ন খাতে উল্লেখযোগ্য অর্থ বরাদ্দ ঘোষণা করা হয়। মাদ্রাসা শিক্ষা সেই উন্নয়ন পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু শিক্ষক নিয়োগ না হলে সেই উন্নয়নের বাস্তব ফল মিলছে না বলেই দাবি তাঁদের। কলকাতার রাজপথ থেকেই প্রশ্ন উঠছে; সংখ্যালঘু উন্নয়নের বরাদ্দ অর্থ বাস্তবে কতটা কাজে লাগছে।
নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ
চাকরিপ্রার্থীদের অভিযোগ, ২০২৩ সালে West Bengal Madrasah Service Commission বিজ্ঞপ্তি জারি করে। ২০২৪ সালে টেট ও মেইন পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। কিন্তু তার পর থেকে নিয়োগ প্রক্রিয়া কার্যত থমকে রয়েছে। একই বিজ্ঞপ্তিতে অন্যান্য বিষয়ভিত্তিক নিয়োগে অগ্রগতি হলেও আরবি ও অ্যাডভান্সড আরবি পদে কোনও নিয়োগ হয়নি বলে দাবি তাঁদের।
এক আন্দোলনকারী বলেন, 'একই নোটিফিকেশনে অন্য বিষয় এগোল, কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে কেন থমকে গেল?' ক্ষোভের সুরে আর এক প্রার্থীর মন্তব্য, 'ভোটে বুঝতে পারবেন…'; যা রাজনৈতিক মহলেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
আন্দোলনকারীদের বক্তব্যে উঠে এসেছে আর্থিক অনিশ্চয়তার ছবি। 'ভাতা নিয়ে কী করব? আমাদের সন্তানদের মানুষ করতে পারছি না'; এই অভিযোগ কেবল ব্যক্তিগত হতাশা নয়, শিক্ষিত যুবসমাজের কর্মসংস্থান সংকটের প্রতিফলন। বিশেষ করে মাদ্রাসা শিক্ষিত প্রার্থীদের মতে, তাঁদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত হওয়ায় সরকারি নিয়োগই প্রধান ভরসা।
শিক্ষাবিদদের মতে, অবকাঠামো উন্নয়ন বা স্কলারশিপের পাশাপাশি শিক্ষক নিয়োগ না হলে শিক্ষার মান ধরে রাখা কঠিন। শিক্ষকশূন্যতা ছাত্রভর্তি ও উপস্থিতির উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। আরবি বিষয়টি মাদ্রাসা শিক্ষার মূল কাঠামোর অংশ হওয়ায় শিক্ষক না থাকলে পাঠক্রম কার্যত ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আইনি জটিলতা
রাজ্যে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে একাধিক মামলা বিচারাধীন। প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মেধাতালিকা যাচাই, সংরক্ষণ নীতি এবং আইনি বিষয়গুলি খতিয়ে দেখতে সময় লাগছে। সম্ভাব্য কারণ হিসেবে আইনি জটিলতা, যাচাই প্রক্রিয়া এবং নিয়োগ সংক্রান্ত কড়াকড়ির কথাও উঠে আসছে।
তবে চাকরিপ্রার্থীদের প্রশ্ন; স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার নামে অনির্দিষ্ট বিলম্ব কেন? তাঁদের দাবি, দ্রুত ফলপ্রকাশ ও নিয়োগপত্র জারি করতে হবে। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তাঁরা।
রাজ্যে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। গত কয়েক বছরে নিয়োগ প্রক্রিয়া ঘিরে একাধিক বিতর্ক ও আইনি জটিলতা সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে মাদ্রাসা শিক্ষক নিয়োগের জট রাজনৈতিক গুরুত্বও পাচ্ছে। সংখ্যালঘু উন্নয়ন নিয়ে ঘোষণার সঙ্গে বাস্তব কর্মসংস্থানের ব্যবধান তৈরি হলে তা নির্বাচনী রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।
সংবাদদাতা: রাহি হালদার