
Cow Handler Job: এতদিন পর্যন্ত রাখাল বা গরু চড়ানোর পেশা গ্রামীণ সমাজের ঐতিহ্য হিসেবেই দেখা হত। কিন্তু এবার সেই পেশাকেই আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিল রাজস্থান সরকার। 'গাঁও গোয়ালা যোজনা' নামে একটি নতুন প্রকল্প চালু করেছে সে রাজ্যের সরকার। আর তার মাধ্যমেই গ্রামে গোয়ালা নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় নিযুক্ত ব্যক্তিদের মাসে ১০ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই এই উদ্যোগকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজস্থান সরকারের দাবি, এই প্রকল্পের মাধ্যমে একদিকে যেমন গ্রামীণ কর্মসংস্থান বাড়বে, তেমনই গবাদি পশুর সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে গ্রামীণ ঐতিহ্যকেও নতুনভাবে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
'গাঁও গোয়ালা যোজনা'
রাজস্থানের কোটা জেলার রামগঞ্জ মাণ্ডি বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত চেচট তহসিলের খেরলি গ্রামে এই প্রকল্পের সূচনা করেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী মদন দিলাওয়ার। প্রথম পর্যায়ে ১৪টি গ্রামে একজন করে গোয়ালা নিয়োগ করা হয়েছে।
নিযুক্ত গোয়ালাদের মঞ্চে ডেকে পাগড়ি এবং মালা পরিয়ে সম্মান জানানো হয়। এর মাধ্যমে সরকার স্পষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছে; এই পেশাকে সামাজিকভাবে সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে যাওয়াই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, অতীতে প্রায় প্রতিটি গ্রামেই নির্দিষ্ট গোয়ালা থাকতেন, যাঁরা গ্রামের গরু চরানো এবং দেখভালের দায়িত্ব পালন করতেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নগরায়ন, কর্মসংস্থানের পরিবর্তন এবং গ্রাম থেকে শহরে মানুষের স্থানান্তরের কারণে এই প্রথা ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হতে থাকে।
কীভাবে নিয়োগ?
সরকার এই প্রকল্পের জন্য নির্দিষ্ট কাঠামো তৈরি করেছে। সেই অনুযায়ী;
১. প্রতি ৭০টি গরুর জন্য একজন গোয়ালা নিয়োগ করা হবে
২. যদি কোনও গ্রামে গরুর সংখ্যা বেশি হয়, তা হলে দুই বা তিনজন গোয়ালা নিয়োগ করা যেতে পারে
৩. প্রতিটি গোয়ালা মাসে ১০ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন
এই ভাতা সরাসরি সরকার দেবে না। স্থানীয় বাসিন্দা, দাতা এবং সমাজের বিভিন্ন অংশের আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে এই অর্থ সংগ্রহ করা হবে। সরকার মনে করছে, এই পদ্ধতি প্রকল্পকে দীর্ঘমেয়াদে সাসটেনেবল করতে সাহায্য করবে এবং স্থানীয় মানুষদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে।
কেন এই উদ্যোগ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রামীণ অর্থনীতিতে গবাদি পশুর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুধ, কৃষিকাজ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজে গরুর ব্যবহার আজও ব্যাপক। কিন্তু সঠিক পরিচর্যার অভাবে অনেক সময় গবাদি পশুর স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে সেই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে প্রশাসন। একই সঙ্গে গ্রামীণ যুবকদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
বিতর্কের সূত্রপাত
প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী মদন দিলাওয়ার একটি মন্তব্য করেন, যা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, গরুর দুধ পান করলে শিশুরা বেশি বুদ্ধিমান এবং কর্মক্ষম হয়। তুলনায় মহিষের দুধ পান করলে শিশুদের মধ্যে আলস্য বেশি দেখা যায় বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
গ্রামীণ কর্মসংস্থানে নতুন দিশা?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প সফল হলে ভবিষ্যতে অন্যান্য রাজ্যও একই ধরনের উদ্যোগ নিতে পারে। বিশেষ করে যেখানে কৃষি এবং পশুপালন গ্রামীণ অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি, সেখানে এই ধরনের প্রকল্প কর্মসংস্থান বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।