
স্কুল সার্ভিস দুর্নীতি কাণ্ডে গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি পদে চাকরি বাতিলের নির্দেশ দেয় মহামান্য হাইকোর্ট। সেই নির্দেশ মতো চাকরি বাতিল করে সেই পদগুলিতে ফের নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করল স্কুল সার্ভিস কমিশন (School Service Commission)। এই মর্মে বিজ্ঞপ্তি ও জারি করেছে কমিশন। সেখানে মেধাতালিকা মেনে নতুন করে কাউন্সিলিংয়ের কথা বলা হয়েছে।
এদিন স্কুল সার্ভিস কমিশনের তরফে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সেখানে বলা হয়, আগামী ৭ নভেম্বর নিয়োগের কাউন্সেলিং হবে। গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি পদের জন্য এই কাউন্সেলিং। সেই সব পদেই কাউন্সেলিং হবে যেগুলো বাতিল করা হয়েছে।
কমিশন সূত্রে খবর, অবৈধভাবে নিয়োগের জন্য গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি মিলিয়ে ৯০০-র বেশি চাকরি বাতিল করা হয়েছে। সেই পদগুলোতেই নিয়োগ হবে। এই মর্মে DI-দের কাছে নির্দেশিকাও পাঠানো হয়েছে। কমিশন সূত্রে খবর, এই পদগুলির জন্য জেলাভিত্তিক কাউন্সেলিং শুরু হবে।
প্রসঙ্গত, স্কুল সার্ভিস দুর্নীতিকাণ্ডে একের পর এক নিয়োগ বাতিলের নির্দেশ দিচ্ছে মহামান্য হাইকোর্ট। এদিন টাকা দিয়ে স্কুলে চাকরি পাওয়াদের হুঁশিয়ারি দেন কলকাতা হাইকোর্টের মাননীয় বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় (Justice Abhijit Ganguly)।
তিনি এদিন সাফ জানিয়ে দেন,টাকা দিয়ে বেআইনিভাবে যাঁরা স্কুলের চাকরি পেয়েছেন, তাঁদের নিজে থেকে ইস্তফা দিতে হবে। না হলে তাঁদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে। ভবিষ্যতে তাঁরা যাতে সরকারি চাকরি করতে না পারেন, সেই ব্যবস্থাও করবে আদালত।
উল্লেখ্য SSC মামলায় কলকাতা হাইকোর্টে রিপোর্ট জমা দিয়েছে CBI। OMR শিট বা উত্তরপত্র কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তরফে আদালতে পেশ করা হয়েছে। সেই রিপোর্টে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সিবিআই-র সেই রিপোর্ট দেখে কার্যত অবাক মাননীয় বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, মাত্র দু’একটি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে, সাদা খাতা জমা দিয়েই নবম-দশম ও একদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষকতা এবং গ্রুপ-সি ও গ্রুপ-ডি নিয়োগের মেধাতালিকায় জায়গা পেয়েছেন অন্তত ৮ হাজার জন। উত্তরপত্রে কিছু না লিখেও নম্বর পেয়েছেন চাকরিপ্রার্থীরা। এমনকি, তাঁদের স্কুলের চাকরিতে নিয়োগপত্রও দেওয়া হয়েছে। এসএসসি-র হার্ডডিস্কে থাকা খাতার সঙ্গে সার্ভারের আপলোড হওয়া নম্বরের বিস্তর ফারাক।