
উৎকর্ষ বাংলার আওতায় যাঁরা কারিগরি শিক্ষার কোর্সে সফল হয়েছেন তাঁদের চাকরি দিল রাজ্য সরকার। দেওয়া হল নিয়োগপত্র। আজ নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামের অনুষ্ঠান থেকে ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, আজ ১১ হাজার জনকে নিয়োরপত্র দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে আরও নানা জেলার উত্তীর্ণ ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে শিগগিরই নিয়োগপত্র দেওয়া হবে।
যাঁরা চাকরি পেলেন তাঁকে কত বেতন পাবেন তা নিয়েও অনেকের মনে কৌতুহল ছিল। তারও ইঙ্গিত পাওয়া যায় মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে। যাঁরা চাকরি পাচ্ছেন তাঁদের নিয়োগপত্র হাতে তুলে নিয়ে তিনি বলেন, একজন চাকরি পেয়েছেন। দমদমের ছেলে। তাঁর বেতন ১৩ হাজারের বেশি টাকা। আরও একজন আছেন, যিনি এই উৎকর্ষ বাংলা প্রকল্পেই চাকরি পেয়েছেন। বেতন, ৫৪ হাজার টাকা। মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, ৩০ হাজার জনকে এই নিয়োগ পত্র দেওয়া হবে। এর মধ্যে শুধু আজই দেওয়া হবে ১১ হাজার জনকে।
কোন জেলায় কতজন চাকরি পাচ্ছেন তারও তালিকা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, দার্জিলিং থেকে ৭৮৪ জন, কোচবিহারে ৯১৭, আলিপুরদুয়ার ২৬৮, জলপাইগুড়িতে ৭৯৮, কালিম্পং১৩, উত্তর দিনাজপুর ৫০৮, দক্ষিণ দিনাজপুর ৫৫১, মালদা ৫২৭, মুর্শিদাবাদ ১৯৮৮, বাঁকুড়া ১১৩৮, পুরুলিয়া ১৯১৯, বীরভূম ৯৭৯, পূর্ব বর্ধমান ৮৮০ , পশ্চিম বর্ধমান ৩৫০০, পশ্চিম মেদিনীপুর ১৭০৭, পূর্ব ১৩১৯, ঝাড়গ্রাম ৪৯৫, উত্তর ২৪ পরগনা ২৫৯৪, দক্ষিণ ২৪৭৭, হাওড়া ১১৪১, হুগলি ১৪০৫, নদিয়া ১৪৬৭ ওঔ কলকাতা ২৪৮৪। অর্থাৎ মোট ৩০ হাজার ৭০০ জনকে চাকরি দেওয়া হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, কারিগরি শিক্ষায় এত জোর দেওয়ার কারণ হল, এখন এর চাহিদা বাড়ছে। স্কুলের শিশুদের জন্য বছরে ১০ লাখ জামা কাপড় কেনা হত। তবে এখন আমাদের রাজ্যের মেয়েরাই করছে। সেলফ হেলফ গ্রুপের মেয়েদের দিয়ে করানো হচ্ছে। এভাবে বাংলা এগোচ্ছে। দেশে ৪৫ শতাংশ চাকরি কমে গেছে সেখানে এ রাজ্যে ৪০ শতাংশ চাকরি বেড়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর আরও দাবি, দুর্গাপুজোর সময় প্রায় ৪০ কোটি টাকা আয় হয়। আর এতে সবথেকে বেশি লাভবান হন গ্রামবাংলার লোকজন। ৯০ লাখ MSME যা আছে তা রেকর্ড। সেখানে ১ কোটিরও বেশি মানুষ। এছাড়া চামড়া শিল্পে ৫ লাখ লোক কাজ করছে। এভাবেই কাজ হচ্ছে রাজ্যে।