
এখনও পর্যন্ত পৃথিবীর একদিন হিসেবের সময় হল ২৪ ঘণ্টা। তবে সেই দিনের হিসেবটাই বদলে যেতে চলেছে। ধীরে ধীরে ২৫ ঘণ্টায় একদিন হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আর এমনটা হওয়ার কারণ হিসেবে পৃথিবীর ঘূর্ণনের গতি কমে যাওয়াকেই দায়ী করছেন তাঁরা।
আসলে পৃথিবীর উপর প্রভাব বাড়াচ্ছে চাঁদ। পাশাপাশি জলের এবং বরফের গতিবিধিও বদলে যাচ্ছে। যার ফলে ধীরে ধীরে পৃথিবীর ঘোরার গতি কমে যাচ্ছে। প্রতি শতাব্দীতে মিলিসেকেন্ড করে কমে যাচ্ছে ঘূর্ণন গতি। আর সেই কারণেই একটা সময় গিয়ে আদতে প্রতিদিনের সময় বৃদ্ধি পাবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
দিনের হিসেব হয় কীভাবে?
পৃথিবী নিজের চারদিকে একবার ঘুরতে ঠিক যতটা সময় নেয়, তাকেই বলা হয় একদিন। আবার অন্যভাবে বললে, পৃথিবীর নির্দিষ্ট জায়গা থেকে সূর্য ওঠার পর আবার সেই জায়গায় ফিরে আসার সময়টাকে বলা হয় একদিন।
কীভাবে বদলে চাঁদ এবং জলবায়ু পরিবর্তন ধীর করে দিচ্ছে পৃথিবীর ঘূর্ণন?
আসলে পৃথিবীর উপর চাঁদের একটা প্রভাব রয়েছে। এই আকর্ষণের জন্যই জোয়ার ভাটা হয়। আর পৃথিবীর সমুদ্রে তৈরি হওয়া জোয়ারের ঢেউ বা 'টাইডাল বাল্জ' তৈরি হয়। ঘর্ষণের কারণে এই ঢেউগুলো চাঁদের ঠিক সঙ্গে নয়, একটু পিছিয়ে থাকে। আর সেটাই পৃথিবীর ঘূর্ণনকে ধীর করে দেয়।
আরও সহজভাবে বললে, এই কারণে পৃথিবীর ঘোরার গতি কিছুটা কমে যায়। তার বদলে সেই শক্তি কিছুটা চাঁদের কাছে চলে যায়। আর সেই কারণেই চাঁদ ধীরে ধীরে পৃথিবীর থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এটাই হল একটা কারণ।
তবে শুধু চাঁদের জন্যই এমনটা হচ্ছে না। বরং, পৃথিবীর জলবায়ু পরিবর্তনও এই ঘূর্ণন গতি কমিয়ে ফেলার পিছনে কাজ করছে। এক্ষেত্রে নাসা ১২০ বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষণায় দেখিয়েছে, গলতে থাকা হিমবাহ, কমতে থাকা ভূগর্ভস্থ জল এবং বাড়তে থাকা সমুদ্রের জল ধীরে ধীরে পৃথিবীর ভরকে বদলে দিচ্ছে। এর ফলে সরে যাচ্ছে পৃথিবীর ঘূর্ণন অক্ষ। এই কারণেই মিলিসেকেন্ডের জন্য কমে যাচ্ছে পৃথিবীর ঘোরার গতি।
বিজ্ঞানীদের আরও দাবি, ২০০০ সালের পর থেকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। গ্রিন ল্যান্ড এবং আন্টার্কটিকায় গলতে শুরু করেছে বরফ। এটাই ভয়ের।
২৫ ঘণ্টায় একদিন হবে কেন?
খুব তাড়াতাড়ি ২৫ ঘণ্টায় দিন হবে না। এর জন্য অনেকটা সময় অপেক্ষা করতে হবে। বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখেছেন, এমনটা হতে প্রায় ২০০ মিলিয়ন বছর লেগে যেতে পারে। সেই সময় পৌঁছেই ২৫ ঘণ্টায় হবে দিন।
তাই এখনই ঘাবড়ে যাওয়ার কিছু নেই। যদিও বিজ্ঞানীরা চাইছেন সকলেই যেন জলবায়ু পরিবর্তনের দিকে নজর দেয়। তাহলেই রোখা যাবে এই বিপর্যয়।