
এপ্রিলেই ভোট। ইতিমধ্যেই জোরকদমে প্রচার শুরু হয়ে গিয়েছে। ডান-বাম দু'পক্ষ ময়দানে নেমে পড়েছে। ব্যতিক্রম নয় বিধাননগরও। তৃণমূল, বাম ও বিজেপি সব পক্ষই এখন প্রচারে ব্যস্ত। রাজ্যের অন্যতম হাইপ্রফাইল এই কেন্দ্রের প্রার্থী দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। গত তিনবার এই কেন্দ্র ঘাসফুল ফুটিয়েছেন সুজিত। এবারও তাঁর জয় সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ। কারণ গতবারের তুলনায় এবার তাঁর লড়াইটা অনেকটাই সহজ।
প্রসঙ্গত , একুশের ভোটে সব নজর ছিল নন্দীগ্রামের দিকে। তবে নন্দীগ্রামের বাইরেও এমন কিছু কেন্দ্র ছিল যেখানকার লড়াই হয়ে উঠেছিল চমকপ্রদ। যার মধ্যে ছিল উত্তর চব্বিশ পরগনার বিধাননগর। যেখানে সুজিত বসুর মুখোমুখি হন দল বদলে বিজেপিতে যাওয়া সব্যসাচী দত্ত। ফলে বিধাননগরে সুজিত-সব্যসাচীর ডার্বি ছিল সেবার ভোটের বাংলায় অন্যতম আলোচনার বিষয়। যদিও শেষপর্যন্ত শেষহাসি হাসিন সুজিতই। ৭,৯৯৭ ভোটে জেতেন তিনি। সেবার তৃণমূলের ভোট শেয়ার ছিল ৪৭ শতাংশ আর বিজেপির ৪২ শতাংশ। কংগ্রেস পেয়েছিল মাত্র ৮ শতাংশ ভোট। এবার পরিস্থিতি বদলে গিয়েছে। বিধানসভা ভোটের পরেই ফের তৃণমূলে ফিরে আসেন সব্যসাচী। বারাসত কেন্দ্রে তাঁকে প্রার্থীও করেছে দল। ফলে ছাব্বিশের ভোটে বিধাননগরে সুজিত-সব্যসাচী লড়াই আর দেখা যাচ্ছে না।
এবারের ভোটে বিধাননগরে বামেরা প্রার্থী করেছে আইনজীবী সৌম্যজিৎ রাহাকে। অন্যদিকে বিজেপি টিকিট দিয়েছে চিকিৎসক শারদ্বত মুখোপাধ্যায়কে। যিনি ইতিমধ্যে মাছ নিয়ে প্রচার করে নজর কেড়েছেন। তবে বাম ও বিজেপি প্রার্থী রাজনৈতির ভারে ও ধারে তৃণমূল প্রার্থীর থেকে যে অনেকটাই পিছিয়ে তাতে কোনও সন্দেহ নেই।
সুজিত বসু প্রথমবার বিধায়ক হন ২০০৯ সালে। সেবার বেলগাছিয়া কেন্দ্রের বিধায়ক সুভাষ চক্রবর্তীর মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে রমলা চক্রবর্তীকে পরাজিত করে প্রথমবার তৃণমূলের বিধায়ক হয়েছিলেন সুজিত বসু। পরে সীমানা পুনর্নির্ধারণ কমিশনের নির্দেশ অনুসারে, বেলগাছিয়া পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রটি ২০১১ সালে অবলুপ্ত হয়। এরপর ২০১১, ১৬ ও ২১ সালের নির্বাচনে বিধাননগর কেন্দ্র থেকে জয়ী হন সুজিত। ২০১৬ সালে এই কেন্দ্র থেকে ৪৩.৮৫ শতাংশ ভোট গিয়েছিল সুজিতের দখলে। সেবার কংগ্রেসের ডাকসাইটে নেতা অরুণাভ ঘোষকে ৬,৯৮৮ ভোটে পরাজিত করেছিলেন সুজিত বসু। তার আগের বার এই কেন্দ্র থেকে সুজিত পেয়েছিলেন ৫৯.৫৩ শতাংশ ভোট। সেবার সিপিএম প্রার্থী পলাশ দাসকে ৩৫,৯২৫ ভোটে পরাজিত করেছিলেন তিনি।
বিধাননগর বিধানসভা কেন্দ্র বারাসত লোকসভা আসনের অন্তর্গত। বারাসত থেকে ২০১৯ সালে তৃণমূলের কাকলি ঘোষ দস্তিদার জিতলেও সল্টলেকে কিন্তু বিপুল ভোটে এগিয়ে ছিল গেরুয়া শিবির। গত লোকসভা ভোটেও বিধাননগর কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থীর থেকে ১০ হাজার ভোটে পিছিয়ে ছিলেন কাকলি। আহামী ২১ এপ্রিল রাজ্যে দ্বিতীয় দফার ভোট। ইতিমধ্যেই দলীয় কর্মীদের সঙ্গে ময়দানে নেমেছেন সুজিত। রোড শো থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার, কোনও কিছুই বাদ দিচ্ছেন না দমকলমন্ত্রী। একদা বামপন্থী সুজিত মমতার মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেয়ে একটা বৃত্ত সম্পূর্ণ করেছেন। এবার কি তিনি পারবেন বিধাননগরে চতুর্থবার ঘাসফুল ফোটাতে? যার উত্তর পেতে অপেক্ষা করতে হবে ৪ মে পর্যন্ত।